দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান মন্দার কারণে পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ব্রোকারেজ হাউজসহ শেয়ারবাজারের অন্যান্য অংশীজনরা ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রায় ব্যর্থ। এছাড়া বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশের অন্যান্য সব ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

এ সংকট কাটিয়ে উঠতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে অপ্রদর্শিত আয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগসহ ৬টি দাবি জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ডিবিএর সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর ফলে দেশের অন্যান্য সব ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় শেয়ারবাজারকে সচল ও গতিশীল রাখতে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ডিবিএ ৬টি প্রস্তাব ও সুপারিশ করছি।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা প্রদান: এক্ষেত্রে ব্রোকারদের অফিস পরিচালন ব্যয়ভার (অফিস ভাড়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি) মিটিয়ে সব কার্যক্রম সচল রাখার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। প্রদত্ত অর্থ সহায়তা কমপক্ষে ১ বছর (১২ মাস) এর জন্য প্রদান করতে হবে। ব্রোকারদের নিজ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী প্রদেয় অর্থের পরিমাণ বরাদ্দ ককরতে হবে। উক্ত অর্থ সহায়তা কোমল ঋণ হিসেবে ৩ শতাংশ সুদে মোট ২৪টি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। উক্ত কিস্তির অর্থ ব্রোকাররা ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে মাসিক ভিত্তিতে একটানা পরিশোধ করবে।

শেয়ার লেনদেনের ওপর প্রদেয় ব্রোকারদের অগ্রিম আয়কর শিথিলকরণ: ব্রোকারদের অফিস কার্যক্রম সচল রাখতে, প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে বিনিয়োগকারীদের মধ‌্যে উন্নত বিনিয়োগ সেবা ও সুবিধা প্রদান করে বিনিয়োগে আগ্রহী করার লক্ষ্যে শেয়ার লেনদেনের ওপর ব্রোকারদের প্রদেয় অগ্রিম আয়কর ০.০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

বিদ্যমান মার্জিন সুবিধাভোগী বিনিয়োগকারীদের জন্য পুনঃবিনিয়োগের ব্যবস্থা করা: মার্জিন ঋণের আওতাধীন বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের পুনরায় লেনদেনে ফিরিয়ে এনে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ফোর্স সেল থেকে বিনিয়োগকারীকে সুরক্ষা প্রদানসহ বাজারে লেনদেনের প্রবাহ বাড়াতে নিম্নের বিষয়গুলো বিবেচনায় পুনঃঅর্থের যোগান দেওয়ার সুপরিশ করছি। এক্ষেত্রে উক্ত আর্থিক সহায়তায় কোমল ঋণ হিসেবে ৩ শতাংশ সুদে প্রদানযোগ্য হবে। উক্ত অর্থ শুধুমাত্র বিদ্যমান মার্জিন ঋণ হিসেবধারীদের অনুকূলে পুনঃবিনিয়োগের জন্যে ব্যবহৃত হবে। উক্ত অর্থ ৩ বছর মেয়াদকালীন সময়ের জন্য প্রদান করা হবে।

মার্জিন অ‌্যাকাউন্টে লোনের বিপরীতে আরোপিত সুদ ১ বছরের জন্য স্থগিত করা: বিদ্যমান মার্জিন অ‌্যাকাউন্টে লোনের বিপরীতে আরোপিত সুদ ১ বছরের জন্য স্থগিত করা। এতে করে বিনিয়োগকারী তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সুযোগ পাবে এবং লেনদেনে অংশগ্রহণ করে বাজারকে সক্রিয় করে তুলবে।

অপ্রদর্শিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করা: শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য অপ্রদর্শিত অর্থ নিম্নের বিষয়গুলো বিবেচনায় বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উক্ত অর্থ ১:১ ভিত্তিতে বন্ড মার্কেট ও সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করা হবে। বন্ডে বিনিয়োগকৃত অর্থ ৩ বছরের জন্য ব্লক থাকবে। উক্ত বন্ড এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে লেনদেনযোগ্য হবে।

ব্রোকার কর্তৃক প্রদেয় সিডিবিএল ফি ও চার্জ থেকে পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান: ব্রোকারদের নিজস্ব অফিস কার্যক্রম চালনার পাশাপাশি বাজারবিমুখ বিনিয়োগকারীদের বিভিন্নমুখী সেবা ও সুবিধা প্রদান করে বাজারমুখী করতে বার্ষিক বিও ফি ও অন্যান্য সব ধরনের চার্জ ১ বছরের জন্য পূর্ণ মওকুফ করা।