শেয়ার ব্যবসা করে অনেকেই পথে বসেছেন। আবার এই শেয়ার ব্যবসা করেই অনেকে দেখেছেন আলোর মুখ। তবে আমাদের দেশে যারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকেই মনে করেন, এটা একটা গ্যাম্বলিং বাজার। আসলে এ কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। তবে বিশ্বের সব দেশের শেয়ার বাজারেই কিছু লোক আধিপত্য বিস্তার করেন। আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। না জেনে ও বুঝে শেয়ার ব্যবসা করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিনিয়োগের পূর্বে অবশ্যই একটি কোম্পানির যাবতীয় খুটিনাটি জেনে বিনিয়োগ করতে হয়। আর এজন্যই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল বিজনেস জার্নাল-এর নিয়মিত ‘ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস’

আজ আমরা পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক নিযে আলোচনা করবো।

কোম্পানির নাম: আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক।

চিত্র: ০১

চিত্র-১: সমাপ্ত কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারে সর্বশেষ ১৬.৭০ টাকায় লেনদেন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩.০৮ শতাংশ বেড়েছে। আগের কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের ক্লোজ প্রাইস ছিল ১৬.২০ টাকা।‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির বর্তমান পিই রেশিও ৯.৯৪ এবং অডিটেড পিই ৭.৩২।

 

চিত্র-২: কোম্পানিটির মুনাফার তথ্য বিশ্লেষনে দেখা গেছে, সদ্য সমাপ্ত বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ০.৫১ টাকা হয়েছে। গতবছরের একই সময়ে যা ছিল ০.৪৫ টাকা।সে হিসেবে শতাংশের ভিত্তিতে যা ১৩.৩৩ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে ০.৩৩ টাকা যা আগের বছর ছিল ০.০৬ টাকা, তৃতীয় প্রান্তিকে — টাকা যা আগের বছর ছিল ০.২৭ টাকা এবং বছর শেষে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১.৬৮ টাকায় যা আগের বছর ছিল ২.২৮ টাকা।

চিত্র: ০২

কোম্পানিটি সদ্য সমাপ্ত বছরে ২১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার মুনাফা করেছে, এর আগের বছরে যার পরিমাণ ছিল ২৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থ্যাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটি মুনাফা কমেছে ১১.৩৭ শতাংশ।

কোম্পানিটির মোট ২,২৫০ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। সে হিসেবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য ২১.১৩ টাকা।এছাড়া কোম্পানির মোট রিজার্ভের পরিমাণ ১,১০৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানিটির ১০.৩৯ টাকা রিজার্ভ রয়েছে।

চিত্র: ০৩

চিত্র-৩: ১,০৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটি ১৯৯৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।১০৬ কোটি ৪৯ লাখ শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানিটির বাজার মূলধনের পরিমাণ ১,৭৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

 

 

চিত্র: ০৪

চিত্র-৪: কোম্পানির শেয়ারধারনের তথ্য বিশ্লেষনে দেখা যায়, উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে ৪১.৫৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২০.২২ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে ১.৪০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৬.৮৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

 

চিত্র: ০৫

চিত্র-৫: গত ১০ বছরে কোম্পানিটির পিই রেশিও বিশ্লেষনে দেখা গেছে, কোম্পানিটির পিই গ্রোথ ৩১.৮৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির পিই ছিল যথাক্রমে- ১৩.৫৫, ১২.৩৬, ৮.৮৪, ৬.৭৭, ৬.২৩, ৫.১৮, ৭.৬৪, ৮.৪৮, ৭.৫৪ এবং ৯.৯৪।

 

চিত্র: ০৬

চিত্র-৬: গত ১০ বছরে কোম্পানিটির ইপিএস বিশ্লেষনে দেখা গেছে, কোম্পানিটির ইপিএস গ্রোথ ২৬.৩২ শতাংশ কমেছে। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির ইপিএস ছিল যথাক্রমে- ৩.৩৮, ২.৩৮, ২.৪৬, ২.২০, ২.৩৬, ৩.০৭, ৩.১৫, ২.৩৫, ২.২৮ এবং ১.৬৮ টাকা।

 

চিত্র: ০৭

চিত্র-৭: গত ৯ বছরে কোম্পানিটির এনএভি বিশ্লেষনে দেখা গেছে, কোম্পানিটির এনএভি গ্রোথ ১.৫৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির এনএভি ছিল যথাক্রমে- ১৬.৬৯, ১৭.৪৬, ১৭.৩৮, ১৭.৫১, ১৮.৫০, ১৯.৭২, ২০.৮৮, ২০.৮০ এবং ২১.১৩ টাকা।

 

 

চিত্র: ০৮

চিত্র-৮: গত ১০ বছরে কোম্পানিটির নেট প্রফিট গ্রোথ বিশ্লেষনে দেখা গেছে, কোম্পানিটির নেট প্রফিট গ্রোথ ১১.৩৭ শতাংশ কমেছে। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির নেট প্রফিট ছিল যথাক্রমে- ১৯৯.২৯, ১৬৯.৪১, ২০৪.৯৭, ২০৮.২০, ২২৩.৫২, ৩০৫.৩৪, ৩১৩.৪৭, ২৪৪.৯৯, ২৪২.৮০ এবং ২১৫.১৯ কোটি টাকা।

 

চিত্র: ০৯

চিত্র-৯: গত ১০ বছরে কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড গ্রোথ বিশ্লেষনে দেখা গেছে, কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড গ্রোথ ৪ শতাংশ কমেছে। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির ডিভিডেন্ডের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে- ২১%বি, ১৭%বি, ১৪%বি, ১৪%সি, ৫%বি+১০সি, ২০%সি, ৫%বি+১৫সি, ২%বি+১৫সি এবং ১৩%সি। এখানে ‘বি’ বলতে স্টক ডিভিডেন্ড এবং ‘সি’ বলতে ক্যাশ ডিভিডেন্ডকে বোঝানো হয়েছে।

 

কোম্পানির অন্যান্য তথ্য সম্বলিত চার্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here