নারায়ণগঞ্জে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক মেডিকেল অফিসারের পরিবারের ১৮ জন করোনায় (কোভিড-১৯) পজিটিভ হয়েছেন। এরমধ্যে স্থানীয় লোকজন পরিবারটিকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়িটির লক্ষ্য করে স্থানীয়রা ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে বিষয়টি জানতে পেরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করেন। ইউএনও’র হস্তক্ষেপে এলাকাবাসীর রোষানল থেকে রক্ষা পেয়েছেন করোনায় আক্রান্ত হওয়া ১৮ জনের পরিবারটি।

গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ওই মেডিকেল অফিসার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে কে বা কারা যেন ঢিল ছুঁড়েছে। বিষয়টি আমি প্রশাসনে জানিয়েছি। থানা পুলিশও এসে ঘুরে গিয়েছে। আমাকে প্রশাসন থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী নিয়মিত এখানে আসা যাওয়া করবে।

তিনি বলেন, এমনিতে ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মানসিক অবস্থা ভালো নয়। এখন তাদের সাপোর্ট দরকার। সহমর্মিতা দরকার। অথচ এলাকাতে হচ্ছে উল্টোটা। আমরা এখানকার স্থানীয়। তারপরও এই মানুষগুলো কেন এমন করছে বুঝতে পারছি না। তাছাড়া আমাদের বাড়িটি আগের থেকেই লকডাউন করেছি। কাউকে এখান থেকে বের হতে দিই না। বাইরে থেকেও কেউ ভেতরে আসতে পারে না। তারপরেও আমাদেরকে উৎখাতের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাড়িতে রেখে তাদের চিকিৎসা করানো হচ্ছে। অন্য চিকিৎসকেরাও এসে দেখেও গেছেন। সার্বক্ষণিক আমি এখানে আসা যাওয়া করবো। আবার অফিসিয়াল কাজও করবো। এই বাড়ির লোক বের না হলে ভাইরাসটি অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপরও স্থানীয়দের কেউ কেউ হয়তো ভুল বুঝিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার।

এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক ওই এলাকায় গিয়ে উশৃঙ্খল লোকজনদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি শান্ত করে বাড়িটিকে লগডাউন করেন। এরপর মাইকে এলাকাবাসীকে নিজ নিজ ঘরে থাকার অনুরোধ করে করোনা সম্পর্কে ধারনা দেন ইউএনও।

এদিকে আক্রান্ত পরিবারের কাছে খাবার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে তাকে ফোন করার অনুরোধ করেন ইউএনও নাহিদা বারিক।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক জানান, ওই মেডিকেল অফিসার নিজেই তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করছেন। তাদের বাসায় সাত বছর বয়সের একটি শিশু ছাড়া ১৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তাদেরকে ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। উশৃঙ্খল লোকজনদের ধাওয়া করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকার আশপাশের বাজার দূরত্বে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ইউএনও আরও জানান, কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূইগড় কাঁচা-বাজার হাজী পান্দে আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, দেলপাড়া কাঁচা বাজার, দেলপাড়া খেলার মাঠে, শাহী বাজার-অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে মাঠে, পাগলা বাজারকে স্থানীয় মেম্বার ও বাজার কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারির সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী বড় রাস্তার খালি জায়গায় এবং বউ বাজারকে  পার্শ্ববর্তী রেল লাইন সংশ্লিষ্ট খালি জায়গায় স্থানান্তর করে প্রতিটি দোকান কমপক্ষে ৬ থেকে ১২ ফুট দূরত্বে বসানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে তবে ঢিল ছুঁড়েছে এমন খবর পাইনি। মানুষ ডিস্টার্ব করছে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তারা সেখানে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।