করোনা ভাইরাস সংক্রমের এ দুঃসময়ে এসে চিকিৎসা বিজ্ঞানকে অনেকটা চমকে দিয়েছে চট্টগ্রামের ১০ মাস বয়সী শাহরিয়ার আলম আবির। আক্রান্ত হওয়ার পর এখন সেই করোনাকেই পরাজিত করে ফিরে গেছে মায়ের কোলে। অবশ্য আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে শিশু আবির মায়ের কোলেই ছিল। পর পর দু’বার পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসায় শনিবার ( ২ মে) তাকে বাসায় যাওয়ার অনুমতি দেন চিকিৎসকরা।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী সময় সংবাদকে বলেন, এটাকে হয়তো আমি মিরাকেল বলব না। বলব চিকিৎসকদের আন্তরিক চেষ্টায় শিশুটি করোনা ভাইরাসকে পরাজিত করেছে। চিকিৎসকদের প্রাণান্তকর চেষ্টা ছিল তাকে সুস্থ করে তোলা। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা সফল হয়েছেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, বাংলাদেশ এত কম বয়সী কোনো শিশু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কি না আমার জানা নেই। ১০ মাস বয়সী শাহরিয়ার আলম আবির আমার কাছে সর্বকনিষ্ঠ রোগী। সে কারণে চিকিৎসকদের চেষ্টা ছিল তার ব্যাপারে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে।

তিনি আরও জানান, তার সর্বশেষ দু’টি পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছে। তার মা কিন্তু গত ক’দিন তাকে নিজের কাছেই রেখেছিলেন। তাই তার মায়েরও করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনিও নেগেটিভ হয়েছেন। তাদের আর হাসপাতালে থাকতে হবে না। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদের বাসায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

দেশের সবচেয়ে কমবয়সী করোনাভাইরাস রোগী আবিরের নমুনায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পর চট্টগ্রাম জেনারেল হাসাপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে খুশির আমেজ বিরাজ করছে।

নিজে সুস্থ হয়েও শুধু দুধের শিশুটির টানে প্রায় ৪০ জন করোনা রোগীর মধ্যে থেকে বুকের ধন আবিরকে আগলে রেখেছিলেন মা রুমা আক্তার। গত ২০ এপ্রিল ১০ মাস বয়সী শিশু আবিরের করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট এসেছিল।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার পূর্ব জোয়ারা গ্রামের ওমান প্রবাসী মাহবুবুল আলমের ছেলে আবির। কিন্তু শিশুটি কীভাবে করোনা আক্রান্ত হয় তা নিয়েও রয়ে গেছে ধোঁয়াশা।

রুমা আক্তার জানান, ছেলেকে নিয়ে গত দুই মাস ধরে তিনি হাসপাতালে আছেন। কোন আত্মীয়ের বাসায় যেমন তিনি যাননি। তেমনি কোনো আত্মীয় তার বাসায় আসেনি। মূলত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আবির করোনা আক্রান্ত হয়। তাই হাসপাতালেই কোনো মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা তার পরিবারের সদস্যদের।

শিশুটি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা লকডাউন করে প্রশাসন। যে কারণে গত ১০ দিন ধরে মা রুমা আক্তার একাই লড়াই করেছেন শিশুটিকে নিয়ে।  নিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এক মুহূর্তের জন্য চোখের আড়াল করেননি।

গতকাল ছেলের সাথে রুমা আক্তারের নিজের নমুনা রিপোর্টও নেগেটিভ আসে। কান্না জড়িত কণ্ঠে রুমা আক্তার বলেন, আমি অনেক খুশি। ছেলের রিপোর্টের সাথে সাথে আমার রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে। আমার ছেলের জন্য সবার দোয়া চাই। আমি এবং আমার ছেলে যে কষ্ট পেয়েছে আর কেউ যেন সেই কষ্ট না পায়।

রুমার ৬ ও ৮ বছর বয়সী আরও দুই মেয়ে আছে। আবির ও দুই চিকিৎসকসহ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল থেকে ইতোমধ্যে ১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিজে/জেডআই