সারাদেশে করোনাভাইরাসের প্রভাবে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তৈরি করা কাস্টমার কমপ্লেইন্ট অ্যাড্রেস মডিউলে অভিযোগ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

এ সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্যে এপ্রিল মাসে পাঁচটি অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইন মডিউলটি চালু হওয়ার পরে মোট ২৩৭টি অভিযোগ দাখিল করেছে বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে ২১৯টি বা ৯২.৪১ শতাংশ সমাধান করা হয়ে গেছে। যেগুলো সমাধানে গড়ে ১৪ দিন সময় লেগেছে। বাকি ১৮টি সমাধানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মডিউলটি চালু হওয়ার পরে সমচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে অক্টোবর মাসে। ওই মাসে ৮২টি অভিযোগ পায় কমিশন। এছাড়া নভেম্বর মাসে ৫৬টি, ডিসেম্বর মাসে ২৭টি, মার্চ মাসে ২৪টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৩টি, জানুয়ারি মাসে ১৯টি ও সেপ্টেম্বর মাসে একটি অভিযোগ পায় কমিশন।

ওইসব অভিযোগের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের চারটি, মার্চ মাসের নয়টি ও এপ্রিল মাসের পাঁচটি সমাধানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অর্থাৎ এর আগের পাঁচ মাসের সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

অনলাইন মডিউল চালু হওয়ার আগে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ লিখিতভাবে জানাতে হতো বিনিয়োগকারীদেরকে। এ জন্য সশরীরে এসে অভিযোগ দাখিলের প্রয়োজন পড়ত। তবে এখন বাসায় বসে থেকেই অনলাইনে অভিযোগ করা যাচ্ছে। এমনকি বন্ধের মধ্যেও অভিযোগ করা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় করোনাকালে সাধারণ ছুটির মধ্যে এপ্রিল মাসে অনলাইনে পাঁচটি অভিযোগ দাখিল করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে বিএসইসির এই মডিউলের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের সমাধান দ্রুত হচ্ছে। ফলে এখন আর বছরের পর বছর অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। এছাড়া এই অনলাইন মডিউলের কারণে অভিযোগকারীর হয়রানি এবং ব্যয় কমে এসেছে। এর ফলে অভিযোগ করার এই অনলাইন মডিউলটির গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে।

আগে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের কাগজ এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে যেতেই অনেক সময় লেগে যেত। তবে এখন আর সেই ভোগান্তি নেই। ফলে মডিউলটি চালুর হওয়ার পরে একটি অনলাইনের অভিযোগ গড়ে সাড়ে ১৪ দিনেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সমাধানের হারও অনেক বেশি।

বিজে/জেডআই