বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার একটি মাছ বাজার থেকে বিরল প্রজাতির ৩৯টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ)। গতকাল বুধবার চিতলমারী মাছ বাজারে বিক্রির সময় সুন্ধি ও কড়ি কাইট্টা প্রজাতির ওই কচ্ছপগুলো উদ্ধার করা হয়। কচ্ছপগুলো ওই বাজারে কেটে কেজি দরে বিক্রি করছিলেন দুজন বিক্রিতা।

উদ্ধার কচ্ছপগুলোর মধ্যে ৩৮টি জীবিত ছিল। অপর কচ্ছপটি কেটে ফেলেন বিক্রেতারা। বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের হাতে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই বিক্রেতাকে ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই দুজন হলেন চিতলমারী উপজেলার দরিউমাজুরী গ্রামের বিপুল হিরা (৫৫) ও একই উপজেলার খাসেরহাট গ্রামের সুভাষ হালদার (৬৫)।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে যেকোনো প্রজাতির কচ্ছপ ধরা, মারা ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে চিতলমারীর বাজারে মাছের কেনাবেচার আড়ালে কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কচ্ছপ বিক্রি করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাজারে অভিযান চালানো হয়। দুজন বিক্রেতা প্রকাশ্যে কচ্ছপ বিক্রির জন্য বসেছিলেন। তাঁরা মাঝারি আকৃতির কচ্ছপ প্রতি কেজি ৭০০ টাকা এবং বড় আকৃতির কচ্ছপ ১ হাজার ১০০ টাকা করে বিক্রি করছিলেন। তাঁদের হাতেনাতে আটক করা হয়।

খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দুই বিক্রেতার কাছ থেকে বিরল প্রজাতির মোট ৩৯টি সুন্ধি ও কড়ি কাইট্টা কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। দুই কচ্ছপ বিক্রেতাকে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফুল আলম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কচ্ছপগুলো উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন। ৩৮টি জীবিত কচ্ছপ বর্তমানে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আছে। আজ বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের বাঘিয়া নদীতে এগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে।

মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, শীত মৌসুমে বিল এলাকা থেকে পানি কমে যাওয়ার পর কিছু অসাধু ব্যক্তি কচ্ছপ শিকার করে থাকেন। পরে স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে এগুলো বিক্রি করা হয়। দণ্ড পাওয়া দুই বিক্রেতা তাঁদের কাছে দাবি করেছেন, তাঁরা কচ্ছপ শিকার করেন না। আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাঁরা কচ্ছপ শিকার করেন, তাঁদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here