নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের অবকাঠামো উন্নয়নে গ্রিন ফিল্ড প্রকল্প কিংবা কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পলিসি চায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এই ধরনের কোম্পানিগুলোকে তালিকাভূক্তির ক্ষেত্রে বেধে দেওয়া সময় সীমা (৩ বছর) কমিয়ে আনার প্রস্তাব করছে সংগঠনটি। আজ শনিবার সংগঠনটির কার্যালয়ে ১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উঠে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পর্যাপ্ত না আসার জন্য অবকাঠামো অবস্থা বহুলাংশে দায়ী। আমাদের অবকাঠামো খাত যত আধুনিকায়ন হবে তত বেশি এফডিআই এদেশে আসবে। তবে এই খাতের বহু গ্রিন ফিল্ড প্রকল্প কিংবা কোম্পানি টাকার অভাবে কাজ করতে পারছে না। একদিকে সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী; অন্য দিকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন জটিলতায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে ব্যবসা করতে হলে আগে ৩ বছর ভালো ব্যবসা করে দেখাতে হবে। এর আগে টাকা সংগ্রহের কোনো উপায় নেই। আর ৩ বছর পরে সেটা সম্ভব হচ্ছে কি না তাও বলা মুশকিল। এতে এ ধরণের কোম্পানিগুলোর ব্যবসাও বাড়ানো সম্ভব হয়না। তাতে করে ওই সব কোম্পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘ মেয়াদে রূপ নেয়।

তাই বাজেটে মেগা প্রকল্পসহ গ্রিন ফিল্ড কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে একটি পলিসি তৈরি করার প্রস্তাব করছি। যাতে তারা ৩ বছর আগেই পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি মনে করে পুঁজিবাজারের রেগুলেটরদের মাঝে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বাজারের উন্নয়নের স্বার্থে এই সমন্বয় জরুরি।

ডিসিসিআইয়ের প্রস্তাবে অবকাঠামো খাতের ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যাতে করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

এজন্য আগামী ৩ বছরকে (২০১৯, ২০, ২১ সাল) অবকাঠামোখাতের উন্নয়নের বছর হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়। যোগযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইএয়েকে ৪ থেকে ৮ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিতে হবে। কারণ এটি করা গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিল্পের উন্নতি হবে অনেক বেশি। এতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাবে ১ শতাংশ।

সংগঠনটি আইপিওতে বিনিয়োগ, অবকাঠামো ফান্ডে বিনিয়োগ, ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের জন্য নিট সম্পদের ওপর ধারাবাহিকভাবে সারচার্জ কমানোর প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি কর্পোরেট ট্যাক্স ধারাবাহিকভাবে কমানোর প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া সরকারের ভালো প্রকল্পগুলোকে পিপিপির (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) আওতায় আনার কথা বলা হয়। এতে বিনিয়োগ বাড়েব। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী পিপিপি খাত গড়ে উঠবে বলে মনে করে সংগঠনটি। এ সময় সংগঠনটির ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থকথা/