অবশেষে টাইগারদের শ্রীলঙ্কা সফর বাতিল হয়ে গেল। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিরপুরে বোর্ড প্রধান লঙ্কা সফরে বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন। এর ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা অপেক্ষার অবসান হলো। আগের সূচি অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা ছিল মুশফিক-মুমিনুলদের।

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, অনেক সময় দিয়েছি। আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ওরা যদি পারতো, তাহলে এর মধ্যেই করতো। সুতরাং আপাতত আমরা শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত করলাম। ওদের কাছ থেকে গতকালই এটা পেয়েছি। আজকে জানিয়ে দিয়েছি যে এই মুহূর্তে সিরিজ খেলা সম্ভব না। পরিস্থিতি যখন ভালো হবে, তখন আমরা নতুন করে সফর নিয়ে ভাববো।

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা আমাদেরকে সফরের বিধি-নিষেধ নিয়ে একটি শর্ত পাঠিয়েছিল। সেটি আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি। ওদের জানানোর পর তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে। কিন্তু ওদের সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই মুহূর্তে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থেকে সফর করা সম্ভব নয়।

পাপন বলেন, ‘সাধারণত কোয়ারেনটাইন ও আইসোলেশন দুইটা দুই জিনিস হিসেবে আমরা ধরি। যদি হোম কোয়ারেনটাইন ধরি তাহলে বাসা থেকে বের হতে পারবে না। কিন্তু কোভিড পজিটিভদের ক্ষেত্রে আইসোলেশন যদি ধরি তাহলে বাসা নয়, ঘর থেকেই সে বের হতে পারবে না। ওদের এখানটায় পুরোপুরি আইসোলেশন।

যেটাকে ওরা কেয়ারেনটাইন বলছে অন্য জায়গায় যে কোয়ারেনটাইন তার সঙ্গে এটার অনেক পার্থক্য, পুরোদস্তুর আইসোলেশন। ওই আইসোলেশনে কোনোভাবেই ঘর থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থায় ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকা, থাকলে ফিটনেস তো পরে মানসিক যে দুরবস্থার সৃষ্টি হবে ওটা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনেক সময় লাগবে।’

আইসোলেশনে কোনোভাবেই ঘর থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থায় খেলা সম্ভব না এটা আমরা আগেই বলে দিয়েছি। এটা যে শুধু আমাদের জন্য করেছে তা নয়। যত ট্যুরিস্ট যাচ্ছে সবার জন্যই করেছে। আমরা যেটা বলেছি ওদের পক্ষে সম্ভব না। ওদের দেশে এটাই আইন। ওদের কাছ থেকে গতকালই এটা পেয়েছি। আজকে জানিয়ে দিয়েছি যে এই মুহূর্তে সিরিজ খেলা সম্ভব না।

শ্রীলঙ্কা সিরিজকে সামনে রেখে ১৯ জুলাই থেকে ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুশীলন শুরু করেন। অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়েই ২০ সেপ্টেম্বর কোচদের অধীনে অনুশীলন শুরু করেন ক্রিকেটাররা। এরপর গত দুই দিন ক্রিকেটারদের ছুটি দেয় বিসিবি। হোটেলে আইসোলেশনে থাকলেও এই মুহূর্তে ক্রিকেটাররা যার যার বাসাতে চলে গেছেন।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিসিবি বরাবর চিঠি পাঠায় লঙ্কান বোর্ড। সেই শর্ত অনুযায়ী শ্রীলঙ্কায় দল পাঠাতে ইচ্ছুক ছিল না বিসিবি। এরপর শ্রীলঙ্কা তাদের সরকারের সঙ্গে কথা বলে সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের উদ্যোগ আর সফল হলো না।

করোনা মহামারির মাঝে অন্য দেশগুলো যে প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে, শ্রীলঙ্কা সেখানে ব্যতিক্রম। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের যে শর্ত জুড়ে দিয়েছে তারা, তা এক কথায় অবাস্তব। এই ১৪ দিনে হোটেলের মধ্যে যদি ক্রিকেটারদের জিম, সুইমিং পুলের ব্যবস্থায় আন্তরিক হতো লঙ্কানরা, তাহলে হয়তো সিরিজটি মাঠে গড়ানো সম্ভব হতো।