আন্তর্জাতিক ডেস্ক, অর্থকথা: ট্রেনের টয়লেটের পানি ব্যবহার করে চা ও কফি তৈরিতে অভিযুক্ত হকারের নিয়োগকারী ঠিকাদারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভারতের রেল মন্ত্রণালয়। ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশনের (আইআরসিটিসি) মাধ্যমে ওই জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিসও পাঠিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ওই শো-কজ নোটিসের জবাব দিতে হবে ওই ঠিকাদার সংস্থাকে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটি ভিডিও ফুটেজের পরিপ্রেক্ষিতে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। এই ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ট্রেনের টয়লেটের পানি ব্যবহার করে চা/কফি ক্যানে ভরছেন ওই রেলওয়ে হকার। পরে তাই বিক্রি করছেন যাত্রীদের মধ্যে।

গত বৃহস্পতিবার রেল বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনাটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের। সেকেন্দ্রাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে চেন্নাই সেন্ট্রাল-হায়দরাবাদ চারমিনার এক্সপ্রেসে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেছে রেল মন্ত্রণালয়। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সংসদে পেশ করা রিপোর্টে রেলের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছ। এবার এই ছবি সামনে আসার পর বৈধ রেলওয়ে হকারের কাছ থেকে চা কিংবা কফি কিনে খাওয়াও আদৌ নিরাপদ কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

এদিকে, এই ঘটনার পরেই রেল বিভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এবার থেকে ট্রেনের হকারদের উপর আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে। টয়লেটের পানি ব্যবহার করে ফের কেউ চা কিংবা কফি তৈরি করে তা যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছেন কি না, বিশেষভাবে নজর রাখা হবে তার উপর। এক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গ হলেই অভিযুক্ত হকার এবং তাঁর নিয়োগকারী ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে রেল মন্ত্রনালয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার মতো গুরুতর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। সমস্ত রুটের ট্রেনেই এই নজরদারি চালানো হবে বলে রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ হকারদের বিরুদ্ধে অভিযানও চালানো হবে। রেল বিভাগ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই সংশ্লিষ্ট দক্ষিণ-মধ্য রেলওয়ে জোনজুড়ে অবৈধ হকার উচ্ছেদ করার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এবার অন্যান্য জোনেও তা চালু করা হবে।

আইআরসিটিসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেটারিং সহ অন্যান্য পরিষেবায় দীর্ঘদিন আগেই জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে সংস্থা। স্টেশনে ও ট্রেনে রেলযাত্রীদের স্বাস্থ্যকর খাবার পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে তারা। খাবারের মানের পরিদর্শন করতে সমস্ত স্টেশন ও ট্রেনে পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করেছে আইআরসিটিসি। উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করার জন্য সারা দেশেই বিভিন্ন ট্রেনে বেস কিচেন তৈরি করা হয়েছে। এমনকী খাবার কিনতে গিয়ে যাতে যাত্রীরা অতিরিক্ত খরচের অভিযোগ না তোলেন, সেই লক্ষ্যে ট্রেনে পিওএস যন্ত্রের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।