পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। সরকারের সাধারণ ছুটি বাড়লে আগামী ১০ মে থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন কার্যক্রম শুরু করা হবে। ছুটি না বাড়লে ৭ মে থেকে লেনদেন হবে।

সাধারণ ছুটি বাড়লে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মতি সাপেক্ষে ১০ মে থেকে লেনদেন শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মো. শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজারের লেনদেন চালু করা যায় কি-না সে বিষয়ে ডিএসই একটি ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করেছে। সে রিপোর্ট অনুযায়ী ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদ আগামী ১০ মে থেকে লেনদেন চালুর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতি সাপেক্ষে করা হবে।

এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে সঙ্গে এই বাজারও বন্ধ রয়েছে। এতে বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্রোকারেজ হাউজগুলো এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। লেনদেন বন্ধ থাকায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আয় নেই। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনাদি দিতে হবে। আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আর্থিক সংকটে ভুগছেন। এছাড়া লেনদেন বন্ধ থাকার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ লেনদেন চালুর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে না।

অন‌্যদিকে লেনদেন চালুর বিষয়ে এখনও তেমন কোনো প্রস্তুতি নেয়নি দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

এ বিষয়ে সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন‐উর‐রশিদ বলেন, ডিএসই লেনদেন চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই। তবে তারা যদি ১০ মে থেকে লেনদেন চালু করতে চায়, আমাদের আপত্তি নেই।

করোনাভাইরাসের কারণে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে না। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ম্যানেজমেন্টকে আরেকটি রিপোর্ট তৈরির জন্য বলা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে ব্যাংকিং সময়ের স্বল্পতার সঙ্গে লেনদেন চালুর সম্ভাব্যতা, স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়, সিডিবিএলের সক্ষমতা, স্টক এক্সচেঞ্জের সক্ষমতা ইত্যাদি তুলে ধরার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া বিএসইসির সম্মতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিজে/জেডআই