নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশ রাহুগ্রস্ত দাবি করে তাকে রাহুমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এজন্য তিনি নিজে কাজ করবেন এবং সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিআরডি) ভবনের অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। ‘দি-হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ’ এ বদিউল আলম মজুমদারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আযোজন করা হয়। তিনি আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট।

বদিউল আলম বলেন, ‘এই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের দেশ দুর্ভাগ্যবশত রাহুগ্রস্ত। এজন্য দেশকে রাহুমুক্ত করতে হবে। আর এ কাজ সবাইকে কাজ করতে হব। সুজন এখানে আশার আলো দেখাচ্ছে।’

মজুমদার বলেন, ‘আমরা এই দেশের মানুষের প্রতিষ্ঠায় কাজ করবো। তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করবো। কারণ দেশকে এগিয়ে নিতে হবে, প্রিয় দেশটাকে রাহুমুক্ত করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ড. বদিউল আলম মজুমদার আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর। ১৯৯৩ সালে তিনি এই সংস্থায় যোগ দেন। এই সংস্থায় যোগদানের পর গত দুই দশক ধরে তিনি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে উন্নয়নের কাজে প্রত্যক্ষ জড়িত। ২০০৩ সালে তিনি দি হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

বদিউল আলম মজুমদার হাঙ্গার প্রজেক্ট সম্পর্কে বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমি গত ২৫ বছর পথ চলেছি, আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা জানিয়েছেন তাতে আমি আপ্লুত। আমি শুনছি ও নিজেকে প্রশ্ন করছি, আমি কি সেই ব্যক্তি। আপনারা আমার যে প্রশংসা করেছেন সে কাজ কি আমি করতে পেরেছি। কিন্তু আপনারা আমার জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন করতে পেরেছেন। এই ২৫ বছর আমাদের অনেক প্রাপ্তির। এই ২৫ বছর গর্বের।আমি জানি না আপনাদের জীবন কত প্রভাব ফেলেতে পেরেছি আমি।’

সুজন সম্পাদক বলেন, ‘সারাদেশে দুই লাখ ৭৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবি তৈরি করেছি আমরা। তাদের মধ্যে অনেকে নারী নেত্রী হয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ সুজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।’

‘আমরা বাল্যবিবাহ বন্ধে কাজ করছি। আমি মানুষের মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছি যে, ‘আন্তশক্তিতে বলিয়ান ব্যক্তি কখনও দরিদ্র থাকতে পারে না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ও চিফ অ্যাক্সিকিউটিভ অফিসার সুজান মোয়ো ফিংন্ড। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের স্বেচ্ছাব্রতি তামিজা হোসেন মজুমদার।

অনুষ্ঠানে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর কর্মীরা বদিউল আলম মজুমদারের অবদান সম্পর্কে বলেন, ‘তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রত্যেক ইউনিয়নকে সম্পৃক্ত করে প্রতিটি ওয়ার্ডে কিছু ভলান্টিয়ার সৃষ্টি করা হয়েছে। যারা সমাজের বৈষম্য দূর করতে কাজ করছে। যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন ওয়ার্ড সভা করে। ওয়ার্ডভিত্তিক কিছু নারী নেতৃত্ব তৈরি করেছে। যারা নারী ও শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সমাজের মানুষদের সচেতন করে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সেলাই প্রশিক্ষণ, ব্লক বুটিক প্রশিক্ষণ, মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি ফার্ম, গবাদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে এ সংগঠন।’

বরিশাল থেকে আসা তৃণমূল নারী নেত্রী খালেদা ওয়াহাব বলেন, ‘আজ আমরা বক্তব্য দিতে পারছি। আমরা প্রতিবাদ করতে পারছি। আজ তাকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের আত্মার শক্তিতে বলীয়ান হওয়া শিখেছেন। তিনি শিখিয়েছেন আত্মশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তি কখনও দারিদ্র্য থাকতে পারে না।’

দি হাঙ্গার প্রজেক্টে বদিউল আলম মজুমদারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং ২৫টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

অর্থকথা/