দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতার বড় অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। আর্থিক খাতে অটোমেশন না থাকার কারণেই এটি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

বৃহস্পতিবার ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত
ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম অ্যান্ড অথেনটিসিটি অব অডিটেড ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টস’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআরের সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেন। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আইসিএবির টেক্সেশন অ্যান্ড করপোরেট লজ কমিটির চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফারুক বলেন, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত সব কোম্পানিকে সিএ ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষা করাতে হয়। আইসিএবিতে নিরীক্ষিত কোম্পানি, আরজেএসসিতে নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা এবং কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সংখ্যার মধ্যে ব্যাপক পার্থক রয়েছে। এতে এখানে দুর্নীতির আলামত লক্ষ করা যায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে সমাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। আইসিএবি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম বা ডিভিএস তৈরির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করছে। যদি সিস্টেমটি তৈরি করা যায় তাহলে সমাজে আর্থিক দুর্নীতির মাত্রা অনেকাংশে কমে যাবে। এটি আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দূর করতে বেশ সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনবিআরের সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, রাজস্ব আহরণের রসদ হচ্ছে অ্যাকাউন্টস বা রিপোর্ট। এর পাশাপাশি আইন-কানুন রাজস্ব আহরণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। অ্যাকাউন্টস যদি সঠিক না হয় তাহলে বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি তৈরি হয়। করদাতাদের সঙ্গে রাজস্ব নিয়ে এনবিআরের যে বিরোধ তৈরি হয় সেটির প্রধান কারণ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি। ডিভিএস অত্যন্ত ভালো একটি উদ্যোগ। এটিকে এগিয়ে নিতে এনবিআর সব ধরনের সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে আর্থিক বিবরণীর যথার্থতা যাচাই করা সম্ভব হবে। তবে পাশাপাশি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের পেশাগত উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্মেলনে ডিভিএসের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কনভেনার অব টাস্কফোর্স অব আইসিএবি কমিটি অন ডিভিএস মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন। আইসিএবি ও এনবিআরের যৌথ উদ্যোগে সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে। এ সিস্টেম ব্যবহার করার জন্য প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা তাদের প্রয়োজনে এ সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি এনবিআরের কর্মকর্তারা আর্থিক প্রতিবেদনটি অথেনটিক কিনা সেটি এ সিস্টেমের মাধ্যমে জানতে পারবেন। এর বাইরে অন্যরাও এ সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে আর্থিক প্রতিবেদনের যথার্থতা এবং এর নিরীক্ষকের নাম জানতে পারবেন। আইসিএবির সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে এ সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে।

তাছাড়া এনবিআর এ সিস্টেমের মাধ্যমে ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টস ব্যতীত অন্য কোনো অ্যাকাউন্টস গ্রহণ করবে না। ২০১৮ সালেই কর আইনে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিবেদনের যথার্থতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে। ডিভিএস সিস্টেম প্রবর্তনের ফলে একই কোম্পানির একাধিক আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হবে। ফলে ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন দেখিয়ে সুবিধা নেয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।