মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তবে সামরিক জান্তার সহিংস দম অভিযানে যে রক্তবন্যা বইছে; সেব্যাপারে তারা জানেন কি না তা নিশ্চিত নয়।

দুর্নীতির অভিযোগে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইংয়ের নেতৃত্বাধীন জান্তা সরকার। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল।

মামলায় সু চি ও উইন মিন্টের পক্ষে লড়ছেন আইনজীবী মিন মিন সোয়ে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমার পক্ষে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা সম্ভব নয়। তাদের পক্ষ হয়ে মামলা লড়লেও মক্কেলদের সঙ্গে কারাগারে কথা বলার অনুমতি আমাকে দেয়নি ক্ষমতাসীন সরকার। এ কারণে তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত কি না তা আমার পক্ষে বলা সম্ভব হচ্ছে না, ।’

গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইংয়ের নেতৃত্বে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। বন্দি করা হয় দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) প্রায় তিন হাজার কর্মী-সদস্য-সমর্থককে। দেশটির পার্লামেন্ট ও মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন গ্রেফতারের তালিকায়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: বিজনেসজার্নালবিজনেসজার্নাল.বিডি

আটকের পর অবৈধ ওয়াকি-টকি রাখার অভিযোগে সু চির বিরুদ্ধে মামলা দেয় সামরিক সরকার। সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পরপরই মিয়ানামারের রাজধানী নেইপিদোতে সু চির বাসভবনে তল্লাশি  অভিযান চালানো হয়। সেসময় তার বাসভবন থেকে কয়েকটি ওয়াকি-টকি উদ্ধার করা হয়। জান্তা প্রতিনিধিদের ভাষ্য, মিয়ানমারের আমদানি-রফতানি আইনের লঙ্ঘন করে ওয়াকিটকি আমদানি এবং অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে।

পরে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও অবৈধ স্বর্ণ রাখার অভিযোগও আনা হয়। কাছাকাছি সময়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করে দেশটির পুলিশ। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুরও করেন। মিয়ানমারের সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মিয়ানমারের সংখ্যাগুরু বর্মী জনগোষ্ঠীর কাছে সু চি অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশটির সাধারণ জনগণ সু চিকে সম্বোধন করে ‘আমায় সু চি’ বা মাতা সু চি বলে।

এই জনপ্রিয়তার জেরেই ২০২০ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছিল তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি; যা ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রশ্নে দেশটির সেনাবাহিনীকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দেয়। গত ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থান সেই অস্বস্তিরই ফলাফল। সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পরই বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে দেশটির সাধারণ জনগণ। রাজধানী নেইপিদো, ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়সহ মিয়ানমারজুড়ে চলতে থাকে বিক্ষোভ ও অসহযোগ আন্দোলন। আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে দৃশ্যত সংযমের পরিচয় দিলেও ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেয় ক্ষমতাসীন জান্তা।

মিয়ানমারের কারাবন্দিদের সহায়তা দানকারী বেসরকারি সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারসের (এএপিপি) তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর গুলিতে দেশটিতে মারা গেছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ, আহত হয়েছেন আরো কয়েক হাজার। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যখন রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছিল, তখন চুপ ছিলেন সু চি। আন্তর্জাতিক আদালতে যখন এই হত্যা-নিপীড়ন নির্যাতনের মামলার শুনানি চলছিল, তখনও সেনাবাহিনীর পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন তিনি।

কিন্তু অবশেষে সেই সেনাবাহিনীই তার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের সময় নীরব থাকার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অনেকটাই হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। এখনো প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে সু চির মুক্তির দাবিতে নিরপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছেন।

সূত্র: রয়টার্স

বিজনেসজার্নাল/ঢাকা/এনইউ

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here