পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিবিধ খাতের কোম্পানি আমান ফিড লিমিটেডের জমি ও কারখানা বিক্রির জন্য নিলাম চলছে। প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পেরে অর্থঋণ আদালত আইনের আওতায় এই নিলাম আহ্বান করেছে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এবি ব্যাংক লিমিটেড।

আগামীকাল বুধবার (২ আগস্ট) বিকাল ৪টা পর্যন্ত আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে দরপত্র গ্রহণ করা হবে। আর আগামীকাল বিকাল ৫টায় প্রাপ্ত সব দরপত্র খুলে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে আলোচিত সম্পত্তি বিক্রি করা হবে। তবে প্রত্যাশার তুলনায় প্রস্তাবিত দাম কম হলে এই নিলাম বাতিল করে নতুনভাবে নিলাম আহ্বান করবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিনিয়োগকারীদের কাছে উচ্চ প্রিমিয়ামে শেয়ার বিক্রির পাঁচ বছরের মাথায় নিলামে জমি ও কারখানা বিক্রির বিষয়টিকে পুঁজিবাজারের জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, এটি বিনিয়োগকারীদের সাথে বড় ধরণের প্রতারণা। আর এর দায় কোম্পানির পাশপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, অডিটর এবং ইস্যু ম্যানেজারকেও নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে আমান ফিড আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৭০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। আইপিওতে  ২৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩৬ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করা হয় বিনিয়োগকারীদের কাছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ প্রিমিয়াম আওয়ার জন্য আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির মুনাফা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি শেয়ারের আয় (ইপিএস) দেখানো হয় ৪ টাকা ৯৭ পয়সা। আইপিওর পর থেকেই মুনাফার বুদ্বুদ ফেটে যায়। মাত্র ৪ বছরের মধ্যে ইপিএস কমে ১ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে।

উচ্চ প্রিমিয়ামে শেয়ার বিক্রির পরও প্রতারণা থেমে থাকেনি আমান গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আমান ফিড মিলের উদ্যোক্তাদের। তারা বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার আস্থার কোনো প্রতিদান তো দেয়-ই-নি, বরং আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারে নয়-ছয় করেছে। এ কারণে কোম্পানির পরিচালকদের কোটি টাকা জরিমানাও করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সূত্রঃ অর্থসূচক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here