দেশের পুঁজিবাজারসহ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে ব্যাপক মুদ্রার সরবরাহ (ব্রড মানি) বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২০২০ এর জুন শেষে মুদ্রা সরবরাহ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে ১৩ শতাংশ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

এছাড়াও ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ৪৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সম্প্রতি গভর্নরের সভাপতিত্বে ওই সভায় বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ ও অতি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক উৎপাদন প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশের কাছাকাছিই থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জনানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতে নিট বৈদেশিক সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে সরকারের ঋণ সংগ্রহের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় সরকারের গৃহীত ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে গৃহীত ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রেখে মুদ্রা সরবরাহ লক্ষ্যমাত্রা ১২.৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১৩ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, সার্বিক অর্থ ও ঋণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সুদহারে কোনো পরিবর্তন না এনে সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ও দেশের পুঁজিবাজারসহ বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্যেও কিছুটা বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তারপরও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতির ফলে অর্থবছর শেষে তা লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছিই থাকবে বলে ধারণা করা হয়।