শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় কী, হঠাৎ তা বলা সহজ নয়। কী কী করলে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে বা হতে পারে, তা জানা থাকলে সংশ্নিষ্টরা নিশ্চয় সে উদ্যোগ নিতেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বলা যায়, যেসব কারণে বাজারের বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে তার অন্যতম হলো তারল্যের অভাব। ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য মুদ্রাবাজার থেকে শেয়ারবাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ দরকার। মুদ্রাবাজারেও যাতে পর্যাপ্ত তারল্য বিরাজ করে, সে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ দরকার। তবে পুঁজিবাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোই শেষ কথা নয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোও জরুরি। এ জন্য সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও বিভিন্ন উদ্যোগের সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই এসবের অভাব দেখা যাচ্ছে। বাজারে হরহামেশা কারসাজি হচ্ছে। কোনো রকম কারসাজি যাতে না হয়, তার জন্য কঠোর উদ্যোগ দরকার। এক কথায়, অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

সন্দেহজনক মনে হলে তদন্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দৈনন্দিন লেনদেনেও গভীর পর্যালোচনা দরকার, যাতে বিনিয়োগকারীরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর আস্থাশীল হতে পারেন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়লে বাজারের অবস্থার উন্নতি হবে।

আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ারবাজারে ইতোমধ্যে অনেক সন্দেহজনক মানের কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত না হতে পারে, সে ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে শেয়ারবাজারকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য বিষয়কেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজারের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত তারল্য না থাকলে শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। সে কারণে ব্যাংকিং খাতের তারল্য প্রবাহ ঠিক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সার্বিকভাবে সংকটকালীন পরিস্থিতি উত্তরণে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো ও সুশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগগুলো দৃশ্যমান করতে হবে।

 

লেখক, সাবেক চেয়ারম্যান, বিএসইসি

সূত্রঃ সমকাল