পুঁজিবাজারে গতকাল ইতিবাচক গতি ফিরতে দেখা গেছে। লেনদেনের শুরু থেকেই শেয়ার কেনার চাপ বাড়লে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়। মাঝে কয়েকবার বিক্রির চাপ এলেও তা সূচকে সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফলে লেনদেন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫২ পয়েন্ট ইতিবাচক হয়। লেনদেন বেড়েছে ১০৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তাই বাজারকে গতিশীল করে তুলেছে। এতে করে নির্বাচনের প্রভাবে বাজার নেতিবাচক এমন গুজব অকার্যকর হয়ে গেল। আসলে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরাই বাজারের নিয়ন্ত্রক। তারা যেভাবে চায় বাজার সেভাবে চলে। গতকাল ছোট বড় সব খাতেই শেয়ার কেনার চাপ ছিল। তবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল ব্যাংক, আর্থিক ও ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলোতে। ছোট খাতগুলোর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি, সেবা ও আবাসন, ভ্রমণ ও অবকাশ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাত শতভাগ ইতিবাচক অবস্থানে ছিল।
গতকাল সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাতে। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ বা ৯৭ কেটি টাকা। এ খাতের এমএল ডায়িং, ভিএফএস থ্রেড, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, সায়হাম কটন দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। এসব শেয়ারের দর ৯ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া নূরানী ডায়িংয়ের প্রায় ১২ কোটি, সায়হাম টেক্সটাইলের ১১ কোটি ও ভিএফএস থ্রেডের সাড়ে ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে নূরানী ডায়িংয়ের দর ১০ পয়সা কমেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১৬ শতাংশ। এ খাতের খুলনা পাওয়ারের প্রায় ৪৯ কোটি টাকা, সামিট পাওয়ারের ১৩ কোটি ও ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে ৭৪ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের দর বেড়েছে সাড়ে ৯ শতাংশ। এছাড়া ফার্মা এইডের ১৩ কোটি, অ্যাডভেন্ট ফার্মার সাড়ে ১২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ব্যাংক খাতে ১২ শতাংশ লেনদেন হয়। এ খাতে ৭৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। শাহাজালাল ব্যাংকের ২১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে ৬৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের ইয়াকিন পলিমার দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এছাড়া আর্থিক খাতে ৭৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে।