স্প্যানিশ লিগের শিরোপা এবার কি আতলেতিকো মাদ্রিদই জিতবে?

লিগ শুরু হওয়ার পর থেকেই বলতে গেলে এই প্রশ্নটা শুনতে হচ্ছে। একদিকে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের ফর্মে আজ উত্থান তো কাল পতন, অন্যদিকে আতলেতিকো শুরু থেকেই একের পর এক জয় তুলে নিয়ে যাচ্ছিল শুরু থেকেই। প্রশ্নটা তো আসবেই!

বার্সেলোনা থেকে এই মৌসুমে আসা লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তরুণ জোয়াও ফেলিক্সের চোখধাঁধানো ফর্মের সুবাদে শুরু থেকেই লিগের শিরোপাদৌড়ে নিজেদের এগিয়ে রেখেছে দিয়েগো সিমিওনের আতলেতিকো।

সে পথে আরেকটা বড় ধাপ কাল এগিয়ে গেছে আতলেতিকো। স্প্যানিশ লিগে এই মুহূর্তে ফর্মে থাকা দলগুলোর একটি সেভিয়াকে কাল নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো। তাতে স্প্যানিশ লিগের ‘শীতকালীন চ্যাম্পিয়ন’ও হওয়া নিশ্চিত হয়ে গেছে সিমিওনের দলের।

‘শীতকালীন চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার জন্য কোনো পুরস্কার নেই বটে, কিন্তু যেকোনো লিগে শীতকালীন সময়ে শীর্ষস্থান হওয়া সাধারণত লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়। লিগের ঠিক অর্ধেক পথে আসার পর সবার ওপরে থাকা দলই হয় ‘শীতকালীন চ্যাম্পিয়ন’, সরল অঙ্কে সে দলেরই তো শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

কালকের জয়ের পর লিগে ১৬ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট হলো লিগ-শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর। ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর ১৬ ম্যাচ শেষে এত পয়েন্ট আর কখনো পায়নি আতলেতিকো, ২০১৩-১৪ মৌসুমে পেয়েছিল ৪৩ পয়েন্ট। ২০১৩-১৪ মৌসুমের হিসাব আসছে কেন? সেবারও যে বার্সা-রিয়ালকে টপকে লিগ জিতেছিল সিমিওনের দলই!

এবারও সে পথেই এগোচ্ছে আতলেতিকো। পয়েন্ট তালিকাই তা বলে। এই মুহূর্তে দুইয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের (১৮ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট) চেয়ে দুই ম্যাচ কম খেলেই ৪ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন সুয়ারেজ-ফেলিক্সরা! তিনে থাকা বার্সার পয়েন্ট ১৮ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট।

সুয়ারেজ কাল গোল পাননি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফেলিক্সকে বিশ্রাম দিতে একাদশেই তাঁকে রাখেননি আতলেতিকো কোচ সিমিওনে, নামিয়েছেন দ্বিতীয়ার্ধে। তবে আতলেতিকোর জিততে কষ্ট হয়নি। ১৭ মিনিটে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড আনহেল কোরেয়ার গোলে এগিয়ে যাওয়া আতলেতিকোর হয়ে ৭৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন সল নিগেজ।

 

গত সপ্তাহে স্পেনকে নাড়িয়ে দিয়ে যাওয়া তুষারঝড়ের কারণে আতলেতিকোর মাঠে আতলেতিকো বনাম অ্যাথলেটিক বিলবাও ম্যাচটি স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। যে কারণে কয়েক দিনের বাড়তি বিশ্রাম পেয়েছে মাদ্রিদের লাল-সাদা দলটি। এর মধ্যে এই ম্যাচে আতলেতিকোর জন্য সুখবর হয়ে আসে ইংলিশ রাইটব্যাক কিয়েরান ট্রিপিয়েরের ফেরাও।

সেভিয়া বলের দখল ও শটে এগিয়ে থাকলেও আতলেতিকোর তেমন বড় পরীক্ষা নিতে পারেনি।
সেভিয়া বলের দখল ও শটে এগিয়ে থাকলেও আতলেতিকোর তেমন বড় পরীক্ষা নিতে পারেনি। 
ছবি: রয়টার্স

ইংল্যান্ডে জুয়া–সম্পর্কিত বিধি ভাঙার কারণে গত ডিসেম্বরে ১০ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন ট্রিপিয়ের, কিন্তু আপিলের পর সেটি স্থগিত করা হয়। ২৩ ডিসেম্বরের পর প্রথম মাঠে নামা ট্রিপিয়ের আতলেতিকোর দুটি গোলেই রেখেছেন অবদান। দুটি গোলই এসেছে ডান দিক থেকে তাঁর ক্রস ধরে।

ফেলিক্সকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বসিয়ে রেখে কোরেয়াকে নামিয়েছিলেন আতলেতিকো কোচ সিমিওনে, ১৭ মিনিটে কী দারুণভাবেই না কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন কোরেয়া। ট্রিপিয়েরের ক্রস বক্সে পেয়ে দারুণ শটে জালে জড়ান। সল নিগেজের গোলটিও প্রায় একই ঢঙেই। ডান দিক থেকে ট্রিপিয়েরের ক্রস, সেটি ধরে নিগেজের শট। এই দুই গোলই সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে দশ ম্যাচ পর সেভিয়ার প্রথম হার নিশ্চিত করে দেয়।

‘জানতাম ম্যাচে কিছু কিছু মুহূর্তে আমাদের ভুগতে হবে, তবে ওরা আমাদের খুব বেশি ভয় ধরাতে পারেনি। বলের দখল অনেক বেশি ছিল ওদের, কিন্তু আমাদের ভোগাতে পারেনি ওরা’—ম্যাচের পর বলেছেন কোরেয়া। একদিক থেকে ঠিকই বলেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। ম্যাচে ৬৭ শতাংশ বলের দখল ছিল সেভিয়ার, শট নিয়েছে ১৩টি। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র দুটিতেই আতলেতিকো গোলকিপার ইয়ান ওবলাককে কিছু কসরত করতে হয়েছে।

ম্যাচ ১-০ থাকা অবস্থায় সেভিয়ার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার মার্কোস আকুনিয়া সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথমে পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে এসে সেভিয়া স্ট্রাইকার ইউসেফ এন-নেসরির শট ঠেকান ওবলাক, কিন্তু সেখান থেকে বল যায় আকুনিয়ার কাছে। ওদিকে ওবলাক তখনো মাটিতে পড়ে। ফাঁকা গোলপোস্ট ছিল, কিন্তু বক্সের ভেতর থেকে আতলেতিকো ডিফেন্ডারদের চাপ সামলে আকুনিয়া শট নেওয়ার সময় পাননি সেভাবে, তাঁর শট চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে।

আতলেতিকোর দ্বিতীয় গোলের আগে সুয়ারেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন সেভিয়া গোলকিপার বোনো। দ্বিতীয় গোলের পরও আরও গোলের খোঁজে আক্রমণ চালিয়ে গেছে সিমিওনের দল।

তৃতীয় গোল না এলেও জয় তো এসেছে। তাতেই বার্সা-রিয়ালকে টপকে এখন শিরোপার স্বপ্ন দেখতেই পারে আতলেতিকো।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here