ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ দেশের বড় সড়কগুলোতে টোল আদায়ের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিনা পয়সায় সেবার দিন শেষ।

আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) ধারণা- বিনা পয়সায় সেবার দিন শেষ। আমাদের এমন মনোভাব সবকিছুর সেবা চাই কিন্তু পয়সা দিতে রাজি না। বিশেষ করে যাদের পকেটে পয়সা আছে, তারা দেয়ই না। এটা আমাদের কালচার। এ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। প্রধানমন্ত্রী চান- বড় সড়ক যেগুলো নির্মাণ করছি, এগুলোতে টোল আদায় করব।

একনেকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা খরচে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পুনরায় মহাসড়কে টোল আদায়ের বিষয়টি বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার প্রধানের বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা-সিলেটে যে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে, সেটা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। এগুলো থেকে আমরা টোল আদায় করবো। এ ব্যাপারে আজ আবার তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই টোল আদায় করে শুধু সরকারের রাজস্ব আদায়ের জন্য নয়, ইয়ারমার্ক একটা অ্যামাউন্ট থাকে। যাতে ওই সড়কগুলোর মেরামতে এই টাকা ব্যয় করা যায়।

শেখ হাসিনার আরও নির্দেশনা তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, এই যে সড়ক বানাচ্ছি, যাওয়ার পথে যেন বিশ্রামের জায়গা থাকে। কফি খাওয়ার জায়গা থাকে। একটু বসে হালকা হওয়ার জায়গা থাকে। একটা সুন্দর ওয়াশরুম থাকে। নারীদের চেঞ্জিং রুম ও বসার জায়গা যেন থাকে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এগুলো করতেই হবে।

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে যখন ভালো পরিবেশ সৃষ্টি হলো, ব্যাপকভাবে ফসল উৎপাদন হলো, কল-কারখানা চালু হলো, উন্নয়নের পথে দেশ এগিয়ে যেতে লাগলো, তখনই ১৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটলো। আমি আজকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ও জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটু স্মরণ করতে চাই। বাংলাদেশের মানুষের যখন ভালো সময় আসে, দেশের মানুষ যখন ভালো থাকে, যখন মানুষের জীবনের মান একটু উন্নত হয়, তখনই আঘাত আসার আশঙ্কা থাকে। তাই সবাইকে একটু সতর্ক থাকা দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলেছে। মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। আমরা সীমিত সম্পদ দিয়ে মোকাবিলা করেছি। আমাদের ভৌগোলিক সীমানা ছোট, জনসংখ্যার দিক দিয়ে বড় দেশ, সেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। করোনা মোকাবিলায় যথাসাধ্য চেষ্টা করে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়েছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দিয়েছি। সাথে সাথে করোনা প্রতিরোধে টিকা দেওয়া শুরু করেছি। অনেক উন্নত দেশ এখনো ভ্যাকসিন আনতে পারেনি। ভ্যাকসিন নিয়ে যখন গবেষণা হচ্ছে, যে জায়গায় গবেষণা হচ্ছে সেখান থেকে ক্রয় করার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। এর পাশাপাশি আমরা আগাম টাকা দিয়েছি ভ্যাকসিনের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশবাসী আমাদের সহায়তা করেছে। তাদের সহায়তার জন্য তাদের সেবা করার সুযোগ পাচ্ছি। দেশবাসী ভোট দিয়েছে বলেই ক্ষমতায় এসে তাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। করোনা ভাইরাসে সারা বিশ্বের অর্থনীতিও অচল। উন্নত দেশও যেখানে ভ্যাকসিন দিতে পারেনি বাংলাদেশ কিন্তু সেটা পেরেছে এবং দৃষ্টান্ত আমরা দেখাতে পেরেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here