করোনাকালের অর্ধশত দিন পেরিয়ে অপরিকল্পিত লকডাউন বাংলাদেশকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, হঠাৎ করে শিথিলতা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। তাই দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। আর তা বাস্তবায়ন করতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনেই। তবে এমন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী নয় বরং সুরক্ষা মাথায় রেখে জীবিকার পথ খুলে দেয়া, বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এই সংখ্যা কেবল শনাক্তকৃত রোগীর। এদিকে লকডাউনের একমাস পেরিয়ে সীমিত পরিসরে পোশাক কারখানা খুলে দেয়া আর দোকানপাটে শিথিলতার পাশাপাশি ঘোষণা এসেছে স্বল্প পরিসরে বিমান ও রেল চলাচলের। এরই প্রেক্ষিতে গত কয়েক দিনে রাস্তায় বাড়ছে সাধারণ মানুষের আনাগোনা। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণের ধারা অনুযায়ী লকডাউনটা আরো কিছুদিন থাকলে ভালো হয়। শনাক্ত ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরো জোরদান করা দরকার। এই যে লকডাউন প্রত্যাহার করার কারণে যদি রোগী অনেক বেড়ে যায়। তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

তারা বলছেন, জীবন আর জীবিকার এই টানাপোড়েনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আরো সতর্কভাবে। আর এমন সিদ্ধান্ত যেনো আত্মঘাতী না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, কারখানা মালিকদের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ সহ অন্য সব সংস্থার সাহায্যে এগিয়ে গেলে, সেটাই দেশের জন্য অনেক উপকারী হবে।

তবে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই অর্থনৈতিক দিকটাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, বিষয়টিকে আত্মঘাতী বলা যাবে না। যদি স্বাস্থ্যগতভাবে দেখি, তাহলে ভাববো এটা খুলে দেয়ার দরকার নেই। যদি মানুষের জীবিকার বিষয়টি দেখতে হয়, তাহলে লকডাউন খুলেই দিতে হবে।

বিজে/জেেডআই