বিশ্বে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি চারজনে একজন শ্রবণ সমস্যায় ভুগবে। আজ মঙ্গলবার (০২ মার্চ) এ বিষয়ে সতর্ক করে এর প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অতিরিক্ত বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী শ্রবণ সংক্রান্ত এ প্রতিবেদনে সমস্যার মূল কারণ হিসেবে সংক্রমণ, রোগ, জন্মগত ত্রুটি, অতিরিক্ত শব্দ ও জীবনধারাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এসব সমস্যার অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টে পদক্ষেপ গ্রহণ বাবদ একটি প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রতি বছর মাথাপিছু ১.৩৩ মার্কিন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, বিশ্বব্যাপী বর্তমানে প্রতি পাঁচজনে একজনের শ্রবণ সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এ সংখ্যা আগামী তিন দশকে ১.৫ গুণ বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্বে ২০১৯ সালে ১শ’ ৬০ কোটি লোকের শ্রবণ সমস্যা ছিল। এ সংখ্যা বেড়ে আড়াইশ কোটি হতে পারে।

রিপোর্টে শ্রবণ সমস্যার বড়ো ধরণের কারণ হিসেবে চিকিৎসার অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ঘাটতি রয়েছে।

শ্রবণ সমস্যায় ভোগা প্রায় ৮০ শতাংশ লোক এসব দেশে বাস করে। তারা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় না। এমনকি উন্নত দেশে তুলনামূলক ভালো সুযোগ সুবিধা থাকলেও চিকিৎসায় সুষম বিন্যাস নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরস আধানম গেব্রিয়াসিস বলেছেন, শ্রবণ সমস্যা মোকাবিলায় সম্মিলিত ব্যর্থতার কারণে প্রতি বছর এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডব্লিউএইচওর নতুন প্রতিবেদনটিতে শ্রবণ সমস্যার মাত্রা যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি সমাধানও দেওয়া হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে বিশ্বের সব দেশকে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এই বিষয়কে একীভূত করতে উৎসাহিত করেন ডব্লিউএইচওর প্রধান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ শ্রবণশক্তি হ্রাস প্রতিরোধ সম্ভব রুবেলা-মেনিনজাইটিসের টিকাদান, প্রসূতি-নবজাতকের যত্নআত্তির উন্নয়ন, মধ্যকর্ণের সংক্রমণজনিত প্রদাহ শনাক্ত-চিকিৎসা প্রভৃতির মাধ্যমে। আরও বড়দের ক্ষেত্রে তা প্রতিরোধ সম্ভব শব্দ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ শ্রবণ, কানের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত প্রভৃতির মাধ্যমে।

 

আরও পড়ুন: