রাজধানীতে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং পাম অয়েল ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। তেলের দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখালেও চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করতে চান, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাত্রাবাড়ী বাজারের মুদি দোকানি হাজী আম্বর আলী বলেন, ‘তিন-চার দিন ধরে পাইকারি বাজারে ভোজ্য তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।’

তিনি জানান, পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল লিটারে ৮ থেকে ১০ টাকার বেড়েছে। পাম তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৯ থেকে ৮৪ টাকায়। সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৪ থেকে ৯৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এক ড্রাম পাম অয়েলের দাম ছিল পৌনে ১২ হাজার টাকা, এখন সেটা হয়েছে ১৫ হাজার ৯০০ টাকা। এক ড্রাম সয়াবিন তেলের দাম আগে ছিল ১৪ হাজার ৮০০ টাকা, এখন ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

রায়েরবাগের মুদি দোকানি বেলাল হোসেন জানান, দাম বাড়ার পর এখন সুপার সয়াবিন আর সয়াবিন একই দামে অর্থাৎ প্রতি কেজি সুপার ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানের দিক থেকে সয়াবিনের চেয়ে পিছিয়ে আছে সুপার সয়াবিন।

যাত্রবাড়ীর মোহাম্মাদীয়া রাইস এজেন্সির কাজী মনির হোসেন বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে পাইজাম চালের দাম মানভেদে ৪৪-৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬-৪৭ টাকা হয়েছে। মিনিকেট ৪৭-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৯-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  বিআর-২৮ ধানের চাল ৪১-৪৩ টাকা থেকে বেড়ে ৪৩-৪৫ টাকা হয়েছে।’

উৎসব, রশিদ, মোজাম্মেল ও বিশ্বাসসহ অন্যান্য নামি ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭০০ টাকা এবং নাজিরশাইল ২ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ৩ হাজার টাকা হয়েছে। 

রায়েরবাগের পাইকারি চাল বিক্রেতা মিজানুর বলেন, ‘চালের দাম মিলাররা বাড়িয়েছে। এক সপ্তাহে সুগন্ধি চাল ছাড়া সব ধরনের চালের দাম বস্তায় ১৭৫ থেকে ২০০ টাকা করে বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করছি। সরকারের উচিত, এসব অসাধু ব্যবসায়ীর বিরেুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

যাত্রাবাড়ী বাজারে ক্রেতা রেজাউল হাসান বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কথায় কথায় চাল-তেলের দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটছেন। তারা সিন্ডিকেট করে দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানোর দাবি জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে বন্যা হচ্ছে। এখনও প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে বাজারে ধানের সরবরাহ কম, দামও বেশি। ধানের দাম বেশি হলে চালের দামও কিছুটা বাড়ে।’

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘তেল-পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চালানো হচ্ছে। যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘দেশে এবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ধান-চাল মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’