নিজস্ব প্রতিবেদক: ভিশন ২০৪১ এর অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন খুবই জরুরি। এছাড়াও প্রয়োজন দুর্নীতি রোধ ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্য কমিয়ে আনা। আজ মঙ্গল রাজধানীর আগারগাঁও এর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউণ্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এমন অভিমত দিয়েছেন আলোচকরা। সকালে ‘টেকসই অর্থনীতির যাত্রাপথ: ভিশন ২০৪১, বাংলাদেশের করনীয়’ (চধঃযধিুং ঃড় ধ ঝঁংঃধরহধনষব ঊপড়হড়সু: ঠরংরড়হ ২০৪১: অমবহফধ ২০৪১) শীর্ষক দু’দিনের এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ-এর সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

সম্মেলনটি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউণ্ডেশন (পিকেএসএফ), ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি অব অস্ট্রেলিয়া, ইউনিভার্সিটি অব বাথ, ইউ.কে., এবং ব্রেমেন ইউনিভার্সিটি, জার্মানি এর যৌথভাবে আয়োজন করে।

বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের প্রধান অতিথি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, স্বল্প উন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীলের কাতারে পৌঁছালেও টেকসই অর্থনীতির উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতিকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অন্যতম বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দুর্নীতি যদি লাঘব করা যায় তবে বর্তমান জিডিপি আরও ২ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

সম্মেলনের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ তার বক্তব্যে বলেন অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে ‍এসডিজি অর্জন করতে হলে সবাইকে নিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা যা আজ সারা বিশ্ব গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।দুর্নীতিকে প্রতিহত করা না গেলে এই উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি তথা টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন পিকেএসএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ১৯৯০ এর ৪% প্রবৃদ্ধি ২০১৮ সালে এসে পৌঁছেছে শতকরা ৭.৮৬ এ। এই অনুপাতে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ১২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমায় অবস্থান করছে, সেখানে বাংলাদেশের শতকরা ২২ ভাগ মানুষ দারিদ্রসীমায় অবস্থান করছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, টেকসই অর্থনীতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক অসম উন্নয়ন এর ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের আহ্বায়ক অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন তার বক্তব্যে জানান, উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নতুন এক ধাপ অতিক্রম করতে যাচ্ছে। এজন্য দেশটিকে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ক্লিন এনার্জি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা প্রদান ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভিশন ২০২১ -এ নারীর ক্ষমতায়নসহ দেশের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সোনার বাংলা গড়ার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

আজ থেকে শুরু হওয়া দুইদিনের এ সম্মেলনে শিল্পায়ন, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, গণস্বাস্থ্য, পুষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সর্বমোট ১৫টি পেপার উপস্থাপন করছেন।

অর্থকথা/