কয়েকটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই আচরণ যথোপযুক্ত ও নিরপেক্ষ নয়। এতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ক্ষতির শিকার হবে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে সার্বিক দর বেড়েছে ফ্লোর প্রাইসের ভিত্তিতে ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ। এখনো অর্ধেকের বেশি মিউচ্যুয়াল ফান্ড অভিহিত মূল্যের নিচে রয়েছে। এই অবস্থায় খাতটিতে তদন্ত কমিটি গঠন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই হবে না।

বিনিয়েগকারীরা বলছেন, সরকারের নানা উদ্যেগের ফলে দীর্ঘ মন্দাভাব কাটিয়ে পুঁজিবাজার কেবল স্থিতিশীলতার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। পুঁজিবাজারে কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা দেয়ায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর সম্পদ মূল্যেও গতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো আশাতীত মুনাফা করেছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো যেখানে অনেকদিন লোকসানে আটকে ছিল, সেখানে ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩২টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড মুনাফায় ফিরেছে এবং ফান্ডগুলোর সম্পদ মুল্যও ক্রয় মূল্যের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অনেক ফান্ডের বাজার মূল্যের ভিত্তিতে সম্পদ মূল্য ইতোমধ্যে ক্রয় মূ্ল্য অতিক্রম করেছে। এ কারণে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর দরেও গতি ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু খাতটিতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত এই গতিকে বাধাগ্রস্ত করবে।

এদিকে, মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে ভাইব্রেন্ট বা চাঙ্গা করতে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান, সদস্যরা এবং কমিশনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সভা-অনুষ্ঠানে অবিরত নানা সংস্কারের কথা বলে আসছেন। নীতি-নির্ধারকদের উৎসাহব্যঞ্জক নানা বক্তব্য, মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর অর্জিত মুনাফা এবং সম্পদ মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর দর বাড়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এখন হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক ৫টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ খাতটির অগ্রসর হওয়ার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। এতদিন মিউচ্যুয়াল ফান্ড সম্পর্কে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের নানা সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এখন বিনিয়োগকারীদের হঠাৎ করে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন!

যে ৫টি ফান্ডের দর নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, সেই ৫টি ফান্ড সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ফ্লোর প্রাইস থেকে ফান্ডগুলোর দর বেড়েছে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ। অথচ জুলাই-সেপ্টেম্বর’২০ প্রান্তিকে ফান্ডগুলোর মুনাফা অর্জনের খবর এসেছে ৩০০ শতাংশ থেকে ৪০০ শতাংশের বেশি। ফান্ডগুলো লোকসান থেকে বড় মুনাফায় ফিরেছে। মুনাফায় উল্লম্ফনের তুলনায় ফান্ডগুলোর দর আরও অনেক বাড়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত বাতিল করার জন্য তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি অনুরোধ জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here