মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাত বছর বয়সী এক কন্যা শিশু নিহত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গত মাসের সেনা অভ্যুত্থানের পর নিহতদের মধ্যে সাত বছরের খিন মিয়ো চিটই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বয়সী।

নিহত মেয়েটির পরিবার বলছে, সে তার বাড়ি মান্দালয় শহরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, এ পর্যন্ত যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন শিশু। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে দেশটির দখলদার সামরিকবাহিনী। তবে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য তারা বিক্ষোভকারীদের দায়ী করেছে। সামরিকবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, অভ্যুত্থান-বিরোধীরাই সহিংসতা ও হাঙ্গামার জন্য দায়ী।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:বিজনেসজার্নালবিজনেসজার্নাল.বিডি

মান্দালয়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠান-বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাত বছর বয়সী খিন মিয়ো চিট গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম মিয়ানমার নাউ জানিয়েছে, শিশুটির বাবাকে গুলি করা হয়েছিল। সে সময় শিশুটি ঘরের ভেতরে বাবার কোলে বসে ছিল। গুলিটি শিশুর শরীরে লাগে। ঘটনা জানতে পেরে শিশুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসে দাতব্য সংস্থার সেবাদানকারী কর্মীরা। কিন্তু, তাঁদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, খিন মিয়ো চিটের ১৯ বছর বয়সী ভাইকেও নিরাপত্তাবাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। তবে সামরিকবাহিনী পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

এর আগে গতকাল দেশটির মান্দালয়ে ১৪ বছরের এক কিশোর নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয় বলে খবর পাওয়া যায়। এক বিবৃতিতে সেইভ দ্য চিলড্রেন বলছে, শিশু খিন মিয়ো চিটের মৃত্যুর এই ঘটনা ভয়াবহ। এই দুটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক কারণ নিহত হওয়ার সময় তারা বাড়িতেই ছিল যেখানে তাদের অন্তত সুরক্ষিত থাকার কথা। আসল বিষয়টি হচ্ছে যে, প্রায় প্রতিদিনই এতো শিশু মারা যাচ্ছে যে, বোঝা যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর আসলে মানুষের জীবনের প্রতি কোন সম্মান নেই।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভোটে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে দেশটিতে চলছে লাগাতার বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জান্তাবাহিনী। প্রায় প্রতিদিনই মিয়ানমারে প্রাণহানির খবর মিলছে। মিয়ানমারের সামরিকবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে ১৬৪ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু, রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকারবিষয়ক একটি বেসরকারি সংস্থা বলছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৬১। সূত্র: বিবিসি

বিজনেসজার্নাল/ঢাকা/এসআই

আরওপড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here