এবার সৌদি আরবের আর অস্ত্র বিক্রি করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ইতালি। ইয়েমেন সংঘাতে জড়িত থাকার কারণে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। এ বিষয়ে শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইগি দি মাইও বলেন, ‘ঘোষণা দিচ্ছি সৌদি আরব ও আমিরাতকে মিসাইল ও বিমানে বহনযোগ্য বোমা আর দিচ্ছি না। আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।’

২০১৯ সালের ইতালির এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অস্ত্র কেনার দিকে থেকে তালিকার ১০ এবং ১১তম স্থানে ছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইগি আরো বলেন বলেন, এটি আমাদের পরিষ্কার বার্তা। আমরা ভেবেচিন্তেই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। ইতালি সরকার শান্তি চায়। আমাদের দেশ শান্তির বার্তা দেয়। মানবাধিকার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ইতালি।’
 
কোন কারণে সমরাস্ত্র বিক্রি থেকে সরে এল, তা স্পষ্ট করেনি তিনি। মূলত ইয়েমেন চলমান সংঘাতে বহু মানুষ প্রাণহানির ঘটনার কারণেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির সিদ্ধান্তকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে ইতালির ‘শান্তি ও নিরস্ত্রীকরণ নেটওয়ার্ক’। সংগঠনটি জানায়, দিনের পর দিন ইয়েমেনে বোমা হামলার কারণে বহু নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছেন। আর এই সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি জোট।

ধারণা করা হচ্ছে, আরো ১২ হাজার ৭০০ অধ্যাদেশ বাতিল হতে পারে। অস্ত্র বিক্রি বন্ধের পদক্ষেপে সৌদি সরকারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সালে ইউরোপিয় ইউনিয়নের দেশগুলো সোদির কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করে। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথিদের হঠাতে বিমান থেকে হামলা চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। একে মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে নানা সময় ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে ইইউভুক্ত দেশগুলোকে।

সম্প্রতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধেরও সিদ্ধান্ত নেয় বাইডেন প্রশাসনও। ইসরাইলকে সমর্থনের মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কাছে টানার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সদ্য বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে মার্কিন সহায়তা বন্ধের প্রতিশ্রুতি হিসেবে ক্ষমতা নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ সমরাস্ত্র বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। ক্ষমতাধর দেশের শক্ত অবস্থানে ঘরে-বাইরে অনেকটা একঘরে হয়ে পড়ছে সৌদি আরব।