ময়মনসিংহ মহানগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার ছাত্রদের মেসে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী ত্রিশালের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শুক্রবার (১ মে) ভোরে সেহরি খাওয়ার পর মেসে দুর্বৃত্তরা ঢুকে তৌহিদুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

নিহত তৌহিদুল ইসলাম খান নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার রামেশ্বর এলাকার সাইদুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি তিনকোনা পুকুর পাড় এলাকায় মেসে থেকে লেখাপড়া করতেন।

পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় জনৈক আদিলের বাসায় ভাড়া থাকতেন ওই শিক্ষার্থী। ভোরে কক্ষে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীর ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর ভোর সাড়ে চারটার দিকে ওই শিক্ষার্থী মারা যান। মৃত্যুর আগে দেয়া জবানবন্দি মতে, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানায় পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে রাখা হয়েছে।

এদিকে তৌহিদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও এলাকায়। সন্তানের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

নিহতের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম খান ও চাচা সায়েদ আহমেদ খান জানান, রাত দুইটার দিকে সে বাড়িতে ফোন দিয়ে তার বাবার সাথে কথা বলেছে। কিছুক্ষণ পরেই সে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে খবর পেয়ে এসে দেখি মারা গেছে। তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী হামিদুর রহমান সুমন বলেন, ওকে হত্যা করার মতো কোনো শত্রু থাকতে পারে তা আমাদের কখনো মনে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। আগে সে ত্রিশালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি মেসে থাকতো। মাস খানেক আগে ময়মনসিংহে এসেছে। তৌহিদের হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি জানাই।

এদিকে অতিরিক্ত পূলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর জানান, মৃত্যুর আগে তৌহিদ জবানবন্দি দিয়ে গেছেন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। শিগগিরই জড়িতরা ধরা পড়বে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বিজে/জেআই