অর্থকথা ডেস্ক: রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম খাদ্য উপাদান খেজুর। সারাদিনের রোজার শেষে ইফতারে এই ফলের কোনো জুড়ি নেই। পাইকারি বাজারে সব ধরনের খেজুরের দাম এবার কম, আমদানিও প্রচুর পরিমাণে। তাই রজমানের শুরুতেও দাম বাড়বে না বলে দাবি করছেন পাইকাররা। পুরান ঢাকার বাদামতলীতে দেশের বৃহত্তম ফল কেনাবেচার পাইকারি আড়ৎ ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এখানকার পাইকাররা দুবাই থেকে ৮০ শতাংশ খেজুর আমদানি করেন, বাকি ২০ শতাংশ সৌদি আরব থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারেও খেজুরের দাম এবার কম। তবে বাদামতলীতে এখনও রমজাননির্ভর পণ্য হিসেবে খেজুর বেচাকেনা শুরু হয়নি। সেখানে অন্য সময়ের মতো খেজুর বিক্রি হচ্ছে। রমজানের এক সপ্তাহ আগে বেচাকেনা শুরু হবে।

বাদামতলীর ফল কেনাবেচার পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ইরাকি জায়তন খেজুর ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গেল রমজানে ১শ’ টাকা কেজি দরে খেজুর বিক্রি হয়েছে। এটা বাঙালি অথবা বস্তা খেজুর নামেও পরিচিত। এছাড়া প্রতি কার্টন (১০ কেজি) দুবাইয়ের দাপাস খেজুর ১৬শ’ থেকে ১৭শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত রমজানে যা ১৮শ’ থেকে ১৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

প্রতি কার্টন (৫ কেজি) মরিয়ম খেজুর ৩ হাজার ৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর মরিয়ম খেজুর একই দামে বিক্রি হয়েছে। এবার প্রতি কার্টন (৫ কেজি) আলজেরিয়ার ফরিদা খেজুর ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত রমজানে যা ১ হাজার ২শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বাদামতলীতে ৬০ থেকে ৬২ পদের খেজুর বেচাকেনা হয়। রমজান মাসজুড়ে সর্বোচ্চ খেজুরের চাহিদা ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। এই চাহিদার বিপরীতে বাজারে ৪০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খেজুর থাকবে বলে জানান পাইকাররা।

ইরাক, সৌদি আরব, আলজেরিয়া, তিউনেশিয়া, মিশর, দুবাই থেকে বাংলাদেশে খেজুর আমদানি করা হয়। খেজুরের দাম আফি এন্টারপ্রাইজের মালিক পাইকারি খেজুর বিক্রেতা মোহাম্মদ জায়েদ হোসেন বলেন, দেশে প্রচুর পরিমাণে খেজুর আমদানি হচ্ছে। গত রমজানের থেকে দামও কম। আমি সবসময় দুবাই থেকে দেশে খেজুর আমদানি করি। সপ্তাহখানেক আগে দুবাই থেকে ঘুরে এসেছি। এবার আন্তর্জাতিক বাজারেও খেজুরের দাম কম। আল্লাহ দিলে রমজানেও বাড়বে না।

তিনি আরও বলেন, এবার রমজান উপলক্ষে ৪০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি খেজুর আমদানি করা হবে। রমজানের আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ খেজুর দেশে চলে এসেছে। বাকি খেজুর দুবাই থেকে দেশের পথে জাহাজে রয়েছে।

এখন প্রতি কার্টন (৫ কেজি) তিউনেশিয়ান খেজুর ১ হাজার ৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, গত রমজানে ১ হাজার ৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলজেরিয়ার ভালো মানের প্রতি কার্টন (৫ কেজি) মরিয়ম খেজুর ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত রমজানে ২শ’ টাকা বেশি ছিলো।

প্রতি কার্টন (৫ কেজি) তিউনেশিয়ার বারারি খেজুর ২শ’ টাকা কমে ২ হাজার ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কার্টন (৫ কেজি) পাকিস্তানি খুরমা খেজুর ৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দুবাইয়ের প্রতি কার্টন (১০ কেজি) লুলু খেজুর ২শ’ টাকা কমে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজান শুরু হওয়ার ঠিক আগেই দেশি ফলে বাজার ভরে উঠবে। কারণ এ সময়ে আম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা, জামসহ বিভিন্ন দেশি ফল পাওয়া যাবে। এর ফলে খেজুরের দাম না বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
রমজানে খেজুরের দাম প্রসঙ্গে এএস বিসমিল্লাহ ফ্রুট এজেন্সির মালিক এসএইচ আহমেদ ইকবাল বলেন, এবার রমজানে খেজুরের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। দেশে প্রচুর খেজুর আমদানি হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম কমছে।

এছাড়া এবার রমজান মাসটা এমন সময় পড়ছে যেখানে বাজারে প্রচুর দেশিয় ফল লিচু, আম, আপেল ও তরমুজ পাওয়া যাবে। ফলে খেজুরের দাম কমানোর জন্য এসব মৌসুমি ফলও ভূমিকা রাখবে। কেউ বড় ধরনের কারসাজি না করলে আমরা বলতে পারি খেজুরের দাম কমই থাকবে।

সূত্র: বাংলানিউজ