প্রাচীনকালে আরবের মুশরিক সম্প্রদায়ের বদ অভ্যাস ছিলো তারা যে কোন বিপদে বা পরীক্ষায় পতিত হলে সময়কে গালি দিত।সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, করোনাসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি আসার কারণে অনেকে ২০২০ সালকে অভিশপ্ত বলে গালি দিচ্ছে। এটি গুনাহের কাজ। কেননা সময়ের ভালো ও মন্দ পরিবর্তন করেন স্বয়ং মহান আল্লাহ। তাই সময়কে গালি দিলে সেটা আল্লাহকে গালি দেওয়ার নামান্তর।

সমগ্র ‍জাহানের মালিক মহান আল্লাহতায়ালা পৃথিবীসহ প্রত্যেক গ্রহ-নক্ষত্রের জন্য সময়ের ভিন্ন ভিন্ন সীমা নির্ধারণ করেছেন, তেমনি পরকালের জন্য স্বতন্ত্র সময়কাল সৃষ্টি করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, মানুষ সময়কে গালি দিয়ে আমাকে কষ্ট দেয়। অথচ আমিই সময় (সময়ের স্রষ্টা), সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে, আমি রাত-দিনের পরিবর্তন করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৯১)

ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ দিন-রাতের একটির অংশ কেটে অন্যদিকে দীর্ঘ করেন, ফলে তাতে সমতা আসে। আবার দীর্ঘটা (দিন বা রাতের) ছোট করেন এবং ছোটটিকে বড় করেন। তিনি তাতে যথেচ্ছা পরিবর্তন করেন তাঁর নির্দেশ, ক্রোধ, ক্ষমতা ও জ্ঞানের মাধ্যমে।’ (দেখুন : সুরা নুরের ৪৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা)

পৃথিবীতে সময় পরিমাপের মূল ভিত্তি পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রের এই কাঠামোই আল্লাহ পরিবর্তন করে দেবেন। তাই পরকালে সময় ও তার গণনা ভিন্নভাবে করা হবে। আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তন হয়ে অন্য পৃথিবীতে পরিণত হবে এবং আকাশমণ্ডলীও; মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সম্মুখে, যিনি এক ও পরাক্রমশালী।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৪৮)

ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, যুগকে দোষারোপ করা এবং বিপদাপদের সময় জামানাকে গালি দেওয়া আরবদের অন্যতম অভ্যাস ছিল। কেননা যেসব মসিবত ও কষ্ট তাদের গ্রাস করত, সেগুলোকে তারা জামানার দিকেই সম্বোধিত করত। তারা বলত যে তাদের কালের মসিবত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং যুগ তাদের বরবাদ করে দিয়েছে। সুতরাং মসিবতের কবলে পতিত হয়ে যখন তারা উহাকে জামানার দিকে সম্বন্ধ করত, তখন তারা মূলত জামানার স্রষ্টাকেই গালি দিত। কেননা প্রকৃত অর্থে সব বস্তুর স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ। এ জন্যই জামানাকে গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here