একটা সময় ছিল, যখন সারাদেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হতো। বাসাবাড়ি, কলকারখানায় মানুষের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। কারণ, উৎপাদন হতো চাহিদার অর্ধেকেরও কম। এখন চিত্র পুরোপুরি উল্টো। চাহিদার দ্বিগুণ উৎপাদন ক্ষমতা। আর এই অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতাই এখন সরকারের গলার কাঁটা। উদ্বৃত্ত উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে স্বস্তিতে নেই বিদ্যুৎ বিভাগ। অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ শক্তি বৃদ্ধির কারণে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে সরকারকে।

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট; বর্তমানে ২৩ হাজার ৫৪৮ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্রাহক চাহিদা গরমকালে ১২ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার মেগাওয়াট এবং শীতকালে সাত হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেক বিদ্যুৎও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অলস বসিয়ে রাখতে হচ্ছে সচল বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এ জন্য বেসরকারি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই চুক্তি অনুযায়ী তথাকথিত ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বাবদ প্রতিবছরে গড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা করে গচ্চা দিতে হচ্ছে সরকারকে। গত ১৩ বছরে এই গচ্চার পরিমাণ ৬৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

বিশ্নেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য এটা বড় বোঝা। বিদ্যুৎ বিভাগের দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে সরকারি কোষাগার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ক্ষমতা সামান্য পরিমাণ বেশি থাকতেই পারে। কিন্তু তা দ্বিগুণ করে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস বসিয়ে রাখার কোনো যুক্তি নেই।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ক্রয়বিধি অনুসারে দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা বেশ কঠিন ছিল। এ জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন পাস করা হয়। বিশ্নেষকদের মতে, এটা একরকম দায়মুক্তি আইন। এ আইনের পর বেসরকারি খাতে বিনা টেন্ডারে তেলভিত্তিক রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ধুম পড়ে যায়। উৎপাদনও দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎই এখন সরকারের গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেক মালিকানা বেসরকারি খাতের।

বিদ্যুৎ এমনই একটা পণ্য, যা মজুদ বা সংরক্ষণ করা যায় না। যখন যতটুকু উৎপাদন হয়, তখন ঠিক ততটুকুই সরবরাহ হবে। বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস বসে থাকার কারণে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় উৎপাদন ক্ষমতার ৭০ ভাগই এক প্রকার অলস পড়ে থাকছে। বিদ্যুৎ না কিনেই চুক্তি অনুযায়ী ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ বেসরকারি মালিকদের পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। সূত্র জানায়, চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও অনেকগুলো রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে নতুন নতুন আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। এতে সরকারের খরচ বাড়ছে। পকেট ভারী হচ্ছে এ খাতের ব্যবসায়ীদের।

দূরদর্শিতার অভাব: বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি সাময়িকভাবে সামাল দিতে ২০১০ সালে স্বল্প সময়ে বেশি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদন দেওয়া হয় একের পর এক ব্যয়বহুল রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের। এর অধিকাংশই ছিল তেলচালিত। প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ পড়ত অনেক বেশি। কিন্তু বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে এই ‘সাময়িক উদ্যোগ’ স্থায়ী হয়ে গেছে। বারবার চুক্তি নবায়ন হয়েছে। মেয়াদ বেড়েছে রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর। স্বার্থান্বেষী মহলের অতি উৎসাহে রেন্টাল বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুযোগ দিতেই চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, বেসরকারি মালিকদের বিনিয়োগ উঠে গেলেও চুক্তি নবায়নের সময় ক্যাপাসিটি চার্জ খুব একটা কমেনি।

ক্যাপাসিটি চার্জ: চুক্তিতে বলা আছে, বেসরকারি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরকার কিনে নেবে। সরকার ক্রয় না করলেও ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত হারে ভাড়া দিতে হবে। উদ্যোক্তাদের যাতে লোকসান না হয়, সে জন্য অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে বিনিয়োগকৃত অর্থ হিসাব করে একটি নির্দিষ্ট হারে ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকলেও এ অর্থ পান উদ্যোক্তারা। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর মেয়াদ কম বলে এগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ অনেক বেশি। ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হয় ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন দক্ষতা বা সক্ষমতার ওপর। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির সময় কেন্দ্রের সক্ষমতা কৌশলে বেশি করে দেখানো হয়, যাতে ক্যাপাসিটি চার্জ বেশি হয়। চুক্তিতে যে সক্ষমতা দেখানো হয়, সে অনুযায়ী কেন্দ্রগুলো উৎপাদন করতে পারে না। কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্জ সরকারকে ঠিকই গুনতে হয়।

উদাহরণ: ডিপিএ পাওয়ার জেনারেশন নামে কোম্পানির নারায়ণগঞ্জে ৫০ মেগাওয়াটের একটি কুইক রেন্টাল কেন্দ্র রয়েছে। ডিজেলচালিত কেন্দ্রটির ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্লান্ট-ফ্যাক্টর ছিল মাত্র ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ ওই বছর কেন্দ্রটি তার সক্ষমতার মাত্র ১৯ শতাংশ সময় উৎপাদনে ছিল। যেখানে চুক্তির সময় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্লান্ট-ফ্যাক্টর ধরা হয় ৮০ শতাংশের ওপরে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিপিএ পাওয়ার সরকারের কাছ থেকে আয় করে ২৪২ কোটি টাকা। বছরে অধিকাংশ সময় বন্ধ থেকেও এত বেশি আয়ের কারণ হলো ক্যাপাসিটি চার্জ বা ভাড়া। এটা এনার্জি বিলের (জ্বালানি খরচ ও সংস্কার ব্যয়) বাইরে। বিদ্যুৎ না কিনলেও উদ্যোক্তাকে এই অর্থ দিতে হয়েছে। ২০১০ সালের নভেম্বরে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটির চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়ে উদ্যোক্তা শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে পেয়েছে ২৮৩ কোটি টাকা। এর পর আরও পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়। এ রকম আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। এভাবে সরকারি কোষাগারের হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের পকেটে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, পাঁচটি ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র সারাবছরে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সময় চালু ছিল। বছরের বেশিরভাগ সময় বসে থেকে এসব কেন্দ্র পিডিবির কাছ থেকে আলোচ্য অর্থবছরে এক হাজার ১৪২ কোটি টাকা আয় করেছে।

টাকার হিসাব: পিডিবির তথ্যমতে, ২০০৭-০৮ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ১৩ বছরে বেসরকারি খাত থেকে কেনা হয় ২৫ হাজার ৩১ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ। এ জন্য পিডিবিকে পরিশোধ করতে হয় এক লাখ ৫৯ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ৬৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

 

২০১৯-২০ অর্থবছরে বেসরকারি বিদ্যুৎ মালিকদের বিল দেওয়া হয় ২০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিল দেওয়া হয় ২০ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা, যার মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় হয় ১৬ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ছয় হাজার ২৪১ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা আয় করেন ১৪ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা, এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল পাঁচ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। এভাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চার হাজার ৬৬৪ কোটি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চার হাজার ৭১৪ কোটি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৪৯০ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছরে পাঁচ হাজার কোটি, ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই হাজার ৯৭৩ কোটি, ২০০৯-১০ অর্থবছরে এক হাজার ৭৯০ কোটি, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এক হাজার ৫০৬ কোটি ও ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এক হাজার ২৮০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে দেওয়া হয়।

পাওয়ার সেল: বিদ্যুৎ বিভাগের গবেষণা শাখা পাওয়ার সেল বলছে, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের আর প্রয়োজন নেই। ২০৩১ সালে দেশে চাহিদা হবে ২৯ হাজার মেগাওয়াট। অনুমোদন পাওয়া ও নির্মাণ প্রক্রিয়ায় থাকা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পর উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৩৭ হাজার মেগাওয়াট। এরপরও নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হচ্ছে।

বাড়ছে বিদ্যুতের দাম: রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কয়েক বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়েও দাম বাড়াতে হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প-বাণিজ্যে ব্যয় বেড়েছে। বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়। সরকারের ভর্তুকি বেড়েছে। চাপে পড়েছে অর্থনীতি।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম যা বললেন :রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালসহ শতাধিক প্রকল্প উৎপাদনে আনা হয়। তারপরও এগুলো থেকে মানসম্মত বিদ্যুৎ মেলেনি। দলীয় ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে। চাহিদা না থাকায় এসব কেন্দ্র প্রায়ই বন্ধ থাকে। বসে থেকে বছর বছর ক্যাপাসিটি পেমেন্ট নিচ্ছে। আবার সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে।

এত দিনে ব্যয়বহুল এসব প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের চুক্তি বারবার নবায়ন করা হচ্ছে। সরকার-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুবিধা দিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে ভর্তুকির টাকা বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব।

অধ্যাপক শামসুল আলম আরও বলেন, বিভিন্ন মহলের স্বার্থজনিত নানা কারণে বিদ্যুৎ খাতে এ অবস্থা। তিন বছরের চুক্তিবদ্ধ রেন্টাল প্রকল্প ১০ বছরের জন্য ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েই চলেছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ যা বললেন: বিদ্যুতের মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) একটা চলমান প্রক্রিয়া। এটা সময়ে সময়ে পরিমার্জন-পরিবর্তন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও হবে। ২০১০ সালের দিকে বিদ্যুতের চাহিদার যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তার অনেকটাই অর্জিত হয়নি। আমাদের গ্রাহক বেড়েছে। তবে এদের অধিকাংশ আবাসিক গ্রাহক। শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ চাহিদা সেভাবে বাড়েনি। তিনি বলেন, যদিও বলা হচ্ছে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৩ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু এতে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎও রয়েছে তিন হাজার মেগাওয়াট। সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা রয়েছে ১২ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াট। গ্রিডের সীমাবদ্ধতার কারণে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব নয়। প্রথম দিকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে নজর ছিল। এখন সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ হচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে গেছে। তিন-চার বছরের মধ্যে সবাই মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাবে। তিনি আরও জানান, বিদ্যুতের মাস্টারপ্ল্যান রিভিউ করা হচ্ছে। সরকারের বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প সময়মতো চালু করতে না পারায় রেন্টাল প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। চাহিদার কথা মাথায় রেখেই রেন্টাল প্রকল্পগুলো চালু রাখা হয়েছে। তবে আগামী বছরের মধ্যে অধিকাংশ রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বন্ধ করে দেওয়া হবে। নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট ভিত্তিতে দু-একটি গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল কেন্দ্র থাকবে। ওদের কোনো ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দেওয়া হবে না। এ ছাড়া কয়েক বছর পার হলেও যেসব কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, সেগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here