নেতিবাচক প্রবণতার মাধ্যমে সপ্তাহ শেষ করল দেশের পুঁজিবাজার। লেনদেনের সঙ্গে কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর। এর মাঝেও বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়। বিমা খাতের কোম্পানি প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

অপরদিকে সর্বোচ্চ শেয়ারদর হারানো কোম্পানি হচ্ছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড। কোম্পানিটি গত সপ্তাহে ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ারদর হারায় পূর্বের সপ্তাহের চেয়ে। লেনদেনের মাঝে গত সপ্তাহে অবশ্য সর্বোচ্চ দর পতন হয়েছিল ৩২ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয় ১০৯ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার টাকার।

ডিএসইর তথ্য বলছে, একটানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দরপতন হয় দেশের পুঁজিবাজারে। পূর্বের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও বাজারে বেশিরভাগ শেয়ারের দর ও সূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স পূর্বের চেয়ে কমেছে ৭৬ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট। প্রধান সূচক পাঁচ হাজার ৭২৪ দশমিক ২৪ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে শেষ হয় পাঁচ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে। একইসঙ্গে কমেছে অন্য দুটি সূচকও। জানা গেছে, ডিএসইতে গত সপ্তাহে ৩৬৫ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফন্ড লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ৫৭টির, কমে ২১৯টির। আর ৮৯টির দাম ছিল অপরিবর্তিত। এ হিসাবে লেনদেনে অংশ নেয়া ৬০ ভাগ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারদর হারায় বিদায়ী সপ্তাহে। সূচক ও শেয়ারদর পতনের কারণে কমেছে ডিএসইর বাজার মূলধনও।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী সপ্তাহে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয় গড়ে ৮৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেন দাঁড়ায় চার কোটি ৩৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকার শেয়ার। এদিকে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির প্রতি শেয়ার লেনদেন শেষ হয় ৪৫ টাকা ৭০ পয়সায়। এ দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর আট দশমিক ৫৫ শতাংশ বা তিন টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার হাতবদল হয়।

এদিন কোম্পানিটির শেয়ার ৮১২ বারে পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২টি শেয়ার হাতবদল হয়। দিনভর কোম্পানিটির শেয়ার ৪৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৪৬ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়। এছাড়া কোম্পানিটির শেয়ারদর গত এক বছরে ১৬ টাকা থেকে ৫৫ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠানামা করে।

জানা গেছে, ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০০১ সালে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সর্বশেষ এর বাজার মূলধন ছিল ১৭২ কোটি টাকা।

ডিএসইর তথ্যমতে, গত ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের মোট ৪১ দশমিক ৬২ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে, ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং ৪৭ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

অপরদিকে বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে টপটেন গেইনার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেড। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। সপ্তাহ শেষে সর্বমোট লেনদেন দাঁড়ায় চার কোটি সাত লাখ ৬৬ হাজার টাকার।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে জি কিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে আট দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়। দৈনিক গড়ে ৬৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয় এ কোম্পানিটির। সপ্তাহ শেষে মোট তিন কোটি ৩২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

এরপরের অবস্থানে আছে বিমা খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। সপ্তাহজুড়ে ছয় দশমিক ৬৩ শতাংশ দর বাড়ে কোম্পানিটির। সপ্তাহের প্রতিদিন গড়ে তিন লাখ ১০ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা সপ্তাহ শেষে ১৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।

তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের কোম্পানি হাওয়েল টেক্সটাইল লিমিটেড। পুরো সপ্তাহে ছয় দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার দর বৃদ্ধি পায় কোম্পানিটির। দৈনিক এক লাখ ৩৫ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন করে কোম্পানিটি, যা সপ্তাহ শেষে মোট ছয় লাখ ৭৭ হাজার টাকা হয়। এরপরের অবস্থানে আছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ করপোরেশন। পুরো সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন গড়ে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ এক হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয় কোম্পানিটির।

আরেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান রেকিট বেনকিজারের শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় চার দশমিক ৪৩ শতাংশ। এরপরই প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিএসআরএম স্টিলসের শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় আলোচিত সপ্তাহে চার দশমিক ১৮ শতাংশ। নবম স্থানে থাকা সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় তিন দশমিক ২৯ শতাংশ। তালিকায় থাকা সর্বশেষ কোম্পানিটি হলো ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। তিন দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি হওয়া কোম্পানিটির গড়ে প্রতিদিন সাত কোটি ৭৬ লাখ ১৭ হাজার টাকার লেনদেন হয়।

জানা গেছে, শেয়ারদর হারানোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রবি আজিয়াটা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে শাইনপুকুর সিরামিকস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here