পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ দামি ১০ শেয়ারের তালিকায় নেই ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো কোম্পানি। তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া রয়েছে প্রকৌশল, জ্বালানি ও শক্তি, ওষুধ ও রসায়ন এবং বস্ত্র খাতের কোম্পানি। শেয়ার বিজের অনুসন্ধানে এসব তথ্য বের হয়ে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার। বর্তমানে এই শেয়ার তিন হাজার ৪০০ টাকার ওপরে কেনাবেচা হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছে আরও পাঁচ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম। এগুলো হচ্ছে লিন্ডে বিডি, বার্জার পেইন্টস, গ্লাস্কোস্মিথক্লাইন, মেরিকো ও রেকিট বেনকিজার।
এই তালিকায় আরও রয়েছে দেশি চার প্রতিষ্ঠান। এগুলো হচ্ছে প্রকৌশল খাতের মুন্নু জুট স্টাফলার্স, জ্বালানি ও শক্তি খাতের ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, ওষুধ ও রসায়ন খাতের রেনেটা এবং বস্ত্র খাতের স্টাইল ক্রাফট।
এদিকে আর্থিক অবস্থা ভালো, সেইসঙ্গে সন্তোষজনক লভ্যাংশ প্রদানের ফলেই এসব কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মূলত ভালো লভ্যাংশ পাওয়ার কারণে এসব শেয়ারের চাহিদা থাকে, যার জের ধরে বাড়ছে শেয়ারদর।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে কোম্পানির সংখ্যা বাড়লেও ভালো কোম্পানির সংখ্যা সীমিত। এর সিংহভাগই দখল করে রেখেছে বহুজাতিক কোম্পানি। এসব কোম্পানি ভালো রিটার্ন প্রদান করে, যে কারণে এসব শেয়ারের দর বেশি। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানির সংখ্যা হাতেগোনা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশীয় কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে হলে ভালো ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে হবে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সর্বোচ্চ দরের তালিকায় থাকা কোম্পানির মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বার্জার পেইন্টস। এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সর্বশেষ কেনাবেচা হয় দুই হাজার ৫৯৪ টাকায়। এছাড়া রেকিট বেনকিজারের শেয়ার লেনদেন হয় এক হাজার ৭০৩ টাকায়। অন্য কোম্পানি গ্লাস্কোস্মিথক্লাইনের শেয়ার সর্বশেষ কেনাবেচা হয় এক হাজার ৪০৪ টাকা ৪০ পয়সায়। একইভাবে লিন্ডে বিডির শেয়ার কেনাবেচা হয় এক হাজার ২৩৪ টাকায়। আর মেরিকোর প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে এক হাজার ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকার মধ্যে।
এদিকে দেশি কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মুন্নু জুট স্টাফলার্সের শেয়ার। গতকাল এ শেয়ার লেনদেন হয় দুই হাজার ৩৭ টাকা ৬০ পয়সায়। যদিও এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে, বাজারে এমন গুজব রয়েছে। কারণ কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে এ শেয়ারের দর। গত দুই বছরে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে ৪০০ শতাংশের বেশি।
তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি স্টাইল ক্রাফট। বর্তমানে এই শেয়ার লেনদেন হচ্ছে এক হাজার ৮২৫ টাকায়। আর ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি রেনেটার শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয় এক হাজার ২৩৫ টাকায়। তালিকায় থাকা অন্য দেশি কোম্পানির নাম জ্বালানি ও শক্তি খাতের ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ার গতকাল এক হাজার ২১২ টাকায় কেনাবেচা হয়।
এসব কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদানের হার লক্ষ করলে দেখা যায়, সর্বশেষ বছরে (২০১৭) ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৬০০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে। একই হারে লভ্যাংশ প্রদান করে বার্জার পেইন্টস কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে গ্লাস্কোস্মিথক্লাইন ৫৫০ শতাংশ এবং মেরিকো ৫০০ শতাংশ করে লভ্যাংশ প্রদান করে। আর লিন্ডে বিডির শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ পান ৩৪০ শতাংশ করে।
তবে এসব কোম্পানির লোভনীয় লভ্যাংশ প্রদান লোকদেখানো বলে মন্তব্য করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের যুক্তি এসব কোম্পানির সিংহভাগ শেয়ার রয়েছে পরিচালকদের হাতে। ফলে লাভবান হচ্ছে তারাই।
অন্যদিকে স্টাইল ক্রাফট শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ এবং ৮০ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রদান করে। এছাড়া রেনেটা ১১০ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ১০০ শতাংশ এবং মুন্নু জুট ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করে।