নিজস্ব প্রতিবেদক: রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় নিয়ে দুশ্চিন্তা কমছে। ফিরছে স্বস্তি। টানা দুই অর্থবছরের রেমিট্যান্স প্রবাহে পড়তি ধারার পর এবছর রেমিট্যান্স ইউটার্ন করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই’১৭-এপ্রিল’১৮) রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে। এ সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা মোট এক হাজার ২০৯ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৮০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, একক মাস হিসেবে গত এপ্রিলে ১৩২ কোটি ৭২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায়, যা ২৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বা ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। আর আগের মাস মার্চের তুলনায় বেড়েছে দুই কোটি ৭৪ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেশ কিছু কারণে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলের সঙ্গে খোলাবাজারের ডলার দরে তারতম্য কমে আসা, অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানসহ বিভিন্ন কারণে রেমিট্যান্স বাড়ছে। এক বছর আগের তুলনায় প্রতি ডলারে এখন তিন থেকে চার টাকা বেশি পাচ্ছেন রেমিটাররা। এ ছাড়া প্রবাসীদের কাছে গিয়ে যেসব হুন্ডিকারী অর্থ সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।

গত অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলারে নেমে আসে। এর আগের অর্থবছরে কমেছিল ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর আগে দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছিল ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। এভাবে রেমিট্যান্স কমতে থাকায় তা সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সর্বশেষ হুন্ডি চ্যানেলের সবচেয়ে বড় উপায় হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নাম উঠে আসায় তা ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।