রোহিঙ্গাদের জন্য মাল্টি সেক্টর সহায়তাসহ ২৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন,অনুমোদিত ২৪ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৯ হাজার ৩৬১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এছাড়া বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ৩০৬ কোটি চার লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাঁচ হাজার ৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

আজ ১২ তম একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো- বগুড়া থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প; ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত); মাদানী এভিনিউ থেকে বালু নদী পর্যন্ত মেজর রোড প্রশস্তকরণ ও বালু নদী থেকে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ (প্রথম পর্ব); রাজউক পূর্বাচল ৩০০ ফুট মহাসড়ক থেকে মাদানী এভিনিউ, সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ; ৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন; বঙ্গবন্ধু জাদুঘর নির্মাণ (সংশোধিত); কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধিত); গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৫ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়সহ সড়কের নিরাপত্তা; ডিজিএফআইয়ের টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ ও কারিগরি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্প; ডাক অধিদফতরের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বীর যোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।

এছাড়া, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ৯টি আবাসিক টাওয়ার নির্মাণ; ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজ্যাবিলিটিজ (দ্বিতীয় সংশোধিত); বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা; ২৩ জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন; পতেঙ্গায় বিএনএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ; স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচার কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট; কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোর কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ; ঢাকায় বিসিক কেমিক্যাল পল্লি স্থাপন; গাজী ওয়্যারস লিমিটেড শক্তিশালীকরণ এবং ৫০০-৬০০ মেগাওয়াট এলএনজি বেজড কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পাদন এবং গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্প।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মাল্টি সেক্টর প্রকল্পটির প্রাক্কলিত খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ৫৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে এক হাজার ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এতে সাহায্যে করেছে বিশ্বব্যাংক। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্প এলাকা হচ্ছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাষণ, আশ্রয় শিবিরের ভেতরে সড়ক, ফুটপাথ, বাতি, হাটবাজার উন্নয়ন, যোগাযোগকারী সড়ক, সেতু, সাইক্লোন সেল্টার, মাল্টিপারপাস কমিউনিটি কেন্দ্র, অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র ইত্যাদি কাজ অতি জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণ করা প্রয়োজন। আশ্রয় শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তা দিলেও তা সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় অপর্যাপ্ত।

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একাদশতম একনেক সভায় ১৯ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। দশম সভায় ১৯টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্প, নবম সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলে ২০টি প্রকল্প, অষ্টম সভায় ১৫টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্প, সপ্তম সভায় ১৪টি ও ষষ্ঠ সভায় ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস।