ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় মাসখানেকের মাথায় স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর জো বাইডেনের ফোনকল পাওয়া নিয়ে দীর্ঘ প্রতিক্ষায় ছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের টেলিফোনের এই বিলম্ব ইসরায়েলি এই নেতার প্রতি ওয়াশিংটনের অর্থপূর্ণ কড়াবার্তা বলে মনে করা হয়। নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক ছিল খুবই উষ্ণ। জো বাইডেন যে সেই সম্পর্ক পছন্দ করেননি, বিলম্বিত ফোনকলের মাধ্যমে তিনি হয়তো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। মনে রাখা দরকার, ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের মাত্র ২ দিনের মাথায় নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের পর বাইডেন অবশ্য সেটাকে ‘ভালো কথপোকথন’ বলেই উল্লেখ করেছেন। ওভাল অফিসে বসে সাংবাদিকদের এর বেশি আর কিছু জানাননি তিনি। অন্যদিকে, ফোনালাপের বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় দাবি করেছে, ‘বাইডেন এবং নেতানিয়াহু প্রায় এক ঘণ্টা টেলিফোনে কথা বলেছেন। আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ‘ইরানের হুমকির’ মতো ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন উভয় নেতা।’ এছাড়া নিজেদের মধ্যে থাকা ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলার পাশাপাশি ইরান ইস্যুতে ‘অব্যাহত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের’ প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাইডেন নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন- তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করতে ইচ্ছুক। এছাড়া প্রতিবেশিদের সঙ্গে ইহুদি এই দেশটির সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সমর্থনেরও আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও ফোনালাপে গুরুত্বারোপ করেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন ইতোমধ্যে ডজনখানেক বিশ্বনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু সেই তালিকায় ছিলেন না নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি এই প্রধানমন্ত্রী অবশ্য আগে থেকেই ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে বাইডেনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

আগামী ২৩ মার্চ ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, নেতানিয়াহুকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনের আগে তাকে সুবিধাজনক অবস্থায় এগিয়ে দিতে চাননি প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

সূত্র: রয়টার্স

 

আরও পড়ুন:

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here