প্রায় সারাদেশের মেঘহীন গভীর নীল আকাশে রোদের খেলা। পৌষ মাসের শেষ দিকে দিনের তাপমাত্রা আরও কিছুটা বেড়েছে। আগামী ৬-৭ দিন শীত কমার এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপরই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছীতে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও তাপমাত্রা বেড়েছে। গত মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল শ্রীমঙ্গলে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পৌষের এই সময়ে শীত না বেড়ে কেন কমছে- জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে শীতকালে এক ধরনের বৃষ্টি হয়। এরপর তাপমাত্রাটা বেশি কমে যায়। কিন্তু এবার প্রকৃতিকে সেই বৃষ্টি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এবার শীতে তুলনামূলক তাপমাত্রা একটু বেশি।

তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগরে পশ্চিমা লঘুচাপের সৃষ্টি হয়। এরপর এটি পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত ও হিমালয়ের পাদদেশ দিয়ে আমাদের দেশে আসে। একটা ফ্লো আমাদের এদিকে থাকে। এবার সেটা স্ট্রংলি হয়নি। দিল্লি পর্যন্ত গেলেও বাংলাদেশে আসেনি। তাই শীতে এবার বৃষ্টি নেই।

তিনি আরও বলেন, আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে ১২ বা ১৩ জানুয়ারির পর থেকে দু-এক জায়গায় বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। মোটামুটি এক সপ্তাহের পর থেকে তাপমাত্রা কমে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে। ওই সময় পর্যন্ত তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়বে। হঠাৎ কমে গিয়ে আবার বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।

আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here