পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ১০৪টি কোম্পানি বর্তমানে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ১০৪টি কোম্পানির মধ্যে ২০টি বীমা কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন দেবে না ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। সম্প্রতি ইউসিবি ক্যাপিটাল পরিচালিত একটি গবেষণায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এই ১০৪টি কোম্পানি চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে আলোচনা সাপেক্ষে গ্রাহকদের ঋণ সুবিধা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

ইউসিবি ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশা এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উপর আমাদের ম্যানেজমেন্ট সব সময় একটি রিসার্চ পরিচালনা করেন। এই রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী যেসব কোম্পানিতে রিস্ক বেশি থাকে, সেসব কোম্পানিতে আলোচনা ব্যতীত মার্জিন বন্ধ রাখি। তারই অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে ১০৪টি কোম্পানিরত রিস্ক বেশি রয়েছেতিনি । যেগুলোতে বর্তমানে আলোচনা ব্যতীত মার্জিন দেয়া বন্ধ আছে। সেই তালিকায় বীমা খাতের কোম্পানিগুলো রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালিয়েছে এবং বাজারে গুজব ছড়িয়েছে যে আমরা শুধু বীমা খাতের কোম্পানিতে মার্জিন বন্ধ করেছি।

আলোচনার মাধ্যমে মার্জিন দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রিস্ক বেশি হওয়ার কারণে আমরা সরাসরি মার্জিন না দিয়ে আমাদের সাথে যারা আলোচনা করেন, তাদেরকে আমরা মার্জিন দিয়ে থাকি। এর মাধ্যমে গতকাল স্টার গ্রাহকদের আলোচনার প্রেক্ষিতে বীমার শেয়ারের বিপরীতে ১.৯৭ কোটি টাকা আমরা মার্জিন দিয়েছি। আজকেও আলোচনার প্রেক্ষিতে মার্জিন অব্যহত রয়েছে।

বিএসইসি কর্তৃক তলবের বিষয়ে তিনি বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পুরো বিষয়টা বিস্তারিত জানতে ডেকেছিল। তাদেরকে পুরো বিষয়টা উপস্থাপন করা হয়। সম্পূর্ণ বিষয়ে জেনে কমিশন সতর্ক হতে বলেন। কারণ কোন একটি চক্র আমাদের বিষয়ে গুজব ছড়িয়েছে এবং ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। প্রতিষ্ঠানের ভিতরে বা বাহির থেকে কারা এই কাজ করেছে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জানা গেছে, গবেষণা পরিচালনার পর বীমা খাতের ২০ কোম্পানিসহ ১০৪ কোম্পানিকে আলোচনা ব্যতীত মার্জিন ঋণ না দেওয়ার বিষয়টি বাজারে ছড়িয়ে পড়লে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাজারে। এরপর বীমা খাতের শেয়ারধারীরা তা বিক্রি করতে উঠেপড়ে লাগে। এর প্রভাব পড়ে বাজারে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশাকে শুনানির জন্য বিএসইসিতে ডাকা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট গত রোববার ২০টি ইন্সুরেন্সের শেয়ার নন-মার্জিনেবল ঘোষণা করে। কোম্পানিগুলো হলো-এশিয়া ইন্সুরেন্স, এশিয়া প্যাসেফিক ইন্সুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্সুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্সুরেন্স, ঢাকা ইন্সুরেন্স, ইস্টল্যান্ড ইন্সুরেন্স, ইসলামিক ইন্সুরেন্স, জনতা ইন্সুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্সুরেন্স, নিটোল ইন্সুরেন্স, নর্দান ইন্সুরেন্স, ফিনিক্স ইন্সুরেন্স, পাইওনিয়ার ইন্সুরেন্স, প্রগতি ইন্সুরেন্স, প্রভাতী ইন্সুরেন্স, পূরবী ইন্সুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স, রিপাবলিক ইন্সুরেন্স ও রূপালী ইন্সুরেন্স।

বিজনেসজার্নাল/এইচআর

পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির সর্বশেষ সবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ‘বিজনেস জার্নাল

ও ফেসবুক গ্রুপ ‘ডিএসই-সিএসই আপডেট’ এর সাথে সংযুক্ত থাকুন।