পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইলের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন করে সহযোগী কোম্পানিতে বিনাসুদে ঋণ প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। সহযোগী কোম্পানিটিতে বিনাসুদে ঋণ প্রদানের বিষয়ে কোম্পানিটি পরিচালনা পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়নি। এতে রিজেন্ট টেক্সটাইল সিকিউরিটিজ নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সেই ঋণ ফিরিয়ে আনতে সময় বেঁধে বিএসইসি নির্দেশ দিয়েছে।

সম্প্রতি বিনাসুদে সহযোগী কোম্পানিতে রিজেন্ট টেক্সটাইলের ঋণ দেওয়ার বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় বিএসইসির। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ডিসেম্বর এ অনিয়মের কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে কোম্পানিটিকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। একইসঙ্গে বিনাসুদে সহযোগী কোম্পানিতে দেওয়া ঋণ সুদসহ ফেরাত আনতে রিজেন্ট টেক্সটাইলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে মতে, ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রিজেন্ট টেক্সটাইল তার সহযোগী কোম্পানিতে বিনাসুদে ঋণ দিয়েছে ১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। আর ২০১৯ সালে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, ২০১৮ সালে ৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, ২০১৭ সালে ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং ২০১৬ সালে ছিল ১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

বিএসইসির দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সহযোগী কোম্পানিতে বিনাসুদে রিজেন্ট টেক্সটাইলেল প্রদান করা এই ঋণকে আর্থিক হিসাব বিবরণীতে ডিউ ফর্ম অ্যাফিলিয়েটেড কোম্পানিজ’ শিরোনামে দেখানো হয়েছে। অথচ রিজেন্ট টেক্সটাইলের নামে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ সহযোগী কোম্পানিতে বিনা সুদে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এ ঋণের সুদ বহন করছে রিজেন্ট টেক্সটাইল।

বিনাসুদে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদ ও সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন না নেয়ায় কোম্পানি ২০০৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিএসইসির জারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে।

এছাড়া কোম্পানির এই অনিয়মের ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশপাশি বিনাসুদে প্রদান করা ঋণ, সুদসহ ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, রিজেন্ট টেক্সটাইলের নামে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ তাদের সহযোগী কোম্পানিতে বিনা সুদে ব্যবহার করা হয়েছে। আর এ ঋণের সুদ বহন করছে খোদ রিজেন্ট টেক্সটাইল। এ কারণে সহযোগী কোম্পানির নেওয়া ঋণের সুদের দায়ভার বহন করতে হচ্ছে রিজেন্ট টেক্সটাইলের মালিকানায় থাকা ৪৫.৪৫ শতাংশ শেয়ারহোল্ডাদের।