করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে যে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল তা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদর দপ্তরে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে র‍্যাব ফোর্সেসের ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার এবং র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহসহ আরও অনেকে টিকা নিয়েছেন।

র‍্যাব ডিজি বলেন, করোনার টিকা নিয়ে নিয়ে যে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল সেটি কেটে গেছে। মানুষের মধ্যে আস্থা চলে এসেছে। মানুষ এখন দলে দলে টিকা নিচ্ছেন ও নিবন্ধন করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। মানুষ সফলভাবে টিকা নিচ্ছেন। দেশে খুব ভালোভাবে টিকার কার্যক্রম চলছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকা নিচ্ছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে টিকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সবার সহযোগিতায় আমরা করোনাভাইরাসের টিকা পেয়েছি। র‍্যাবের সদস্যসহ সারা দেশের মানুষ এখন টিকা নিচ্ছেন। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশেই এখনো করোনার টিকা পায়নি। তবে আমরা উন্নত অনেক দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রথম থেকেই টিকা পেয়েছি। আমাদের দেশের এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ মানুষ করোনার টিকা নিয়েছেন।

করোনার সময়ে সদস্যদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে র‍্যাব ডিজি বলেন, করোনার শুরুর সময় থেকে র‍্যাব সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে প্রোটিনযুক্ত খাবার, জিংক ট্যাবলেট ও ভিটামিন সি ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম। আবাসন ইউনিটগুলোকে আমরা আমরা জীবাণুমুক্ত করেছি। আমাদের জ্যেষ্ঠ অফিসারদের মধ্যে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং যারা কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন সেসব জায়গা আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করেছি। ভিডিও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা তদারকি করেছি। এছাড়া আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।

করোনায় র‍্যাব সদস্যদের আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনায় র‍্যাবের ১০ হাজার সদস্যদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে র‍্যাব সদস্যদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু সংখ্যা কম ছিল (মাত্র ৬ জন)। যদিও আমাদের কাছে প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা কাজ করেছি।

করোনার সময় র‍্যাবের আভিযানিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল উল্লেখ করে র‍্যাব ডিজি বলেন, করোনা মহামারির শুরু থেকে আমাদের অভিযান কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখেছি। র‍্যাবের প্রতিটি সদস্যকে স্বাস্থ্যসচেতন করে জাতির প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা দিয়েছি। এই জন্য করোনাকালীন আমাদের আভিযানিক কার্যক্রম কমে যায়নি। এছাড়া হেলিকপ্টার দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের আমরা এনেছি এবং তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।

র‍্যাবের টিকা দান কার্যক্রম কোথায় কোথায় চলবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সদর দপ্তরের যেহেতু লোক সংখ্যা বেশি সেই জন্য এখানে আমরা আলাদাভাবে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ব্যাটেলিয়ানগুলো সিভিল সার্জন ও মেডিকেল কলেজগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা টিকা নিচ্ছেন। এছাড়া সিলেটে আমাদের অধিকাংশ লোক টিকা নিয়ে ফেলেছেন। বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আমাদের সদস্যরা টিকা নিচ্ছেন।

 

আরও পড়ুন: