সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইভারমেকটিনকে অনেকে ‘অলৌকিক নিরাময়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এই ওষুধটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করার সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধ আইভারমেকটিন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ বুধবার প্রকাশিত নির্দেশনায় এই সুপারিশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কোভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে আইভারমেকটিন ব্যবহার করা উচিত। জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এই সংস্থা বলেছে, মৃত্যু হার, হাসপাতালে ভর্তি এবং শরীর থেকে ভাইরাস দূর করার ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের প্রভাব সম্পর্কে ‌‌নিশ্চিত প্রমাণ অত্যন্ত কম।

সম্প্রতি করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের সফলতা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফেসবুক পোস্ট এবং নিবন্ধ ব্রাজিল, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে যখন দেশে দেশে তুমুল লড়াই চলছে; তখন অত্যন্ত সস্তা এবং সহজলভ্য এই ওষুধটির সফলতা নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ছড়িয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে; বিশেষ করে— লাতিন আমেরিকায় আইভারমেকটিনের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার করোনাভাইরাসের হালনাগাদ চিকিৎসা নির্দেশিকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ‌‘আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

চলমান উদ্বেগ:

২ হাজার ৪০০ করোনা রোগীর ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্তভাবে ১৬টি পরীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই রোগীদের অনেককে আইভারমেকটিন এবং অন্যদের প্ল্যাসেবো ও অন্যান্য ওষুধের প্রয়োগ করা হয়েছিল।

সংস্থাটি বলেছে, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন কীভাবে কাজ করে সেবিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত যথাযথ তথ্য-প্রমাণ নেই। এছাড়া এই ওষুধে কোনো উপকারিতা আছে কি না; সেটিরও কোনো ব্যাখ্যা নেই।

ওষুধটি আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চলে মাথার উকুন, কৃমি, ফাইলেরিয়াসিস, রিভার ব্লাইন্ডনেস, খোস-পাঁচড়াসহ অনেক প্যারাসাইটিক সংক্রমণ নিরাময়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে আইভারমেকটিনের সফলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের নির্দেশিকায় ওষুধটির ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মৃত্যুর হার, রোগীদের ভেন্টিলেশনে যাওয়া, হাসপাতালে ভর্তি, হাসপাতালে অবস্থানের সময় এবং ভাইরাল ক্লিয়ারেন্সের ওপর আইভারমেকটিনের কার্যকারিতার ব্যাপারে নিশ্চিত প্রমাণ অত্যন্ত কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জোর দিয়ে বলেছে, নতুন এই নির্দেশনা একেবারে অনমনীয় নয়। প্রমাণ পাওয়া গেলে তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হালনাগাদ করা হবে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ প্যানেল স্বল্প মূল্যের ব্যাপক সহজলভ্য এই ওষুধ ব্যবহারের সুপারিশ করছে না। কারণ এই ওষুধটির উপকারিতা অনিশ্চিত এবং ট্রায়ালে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না মেলায় ওষুধটি ঘিরে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে চলমান উদ্বেগ থেকেই যায়।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here