নতুন বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে আসে অধিক মুনাফার আশায়। তারা শেয়ার বাজারের রিস্ক সম্পর্কে অবগত থেকেও অধিক লাভের আশায় বাজারে আসে। কিন্তু বাজারে ইনভেস্ট করার শুরুতেই তারা বুঝে উঠতে পারেনা কিভাবে ইনভেস্ট করবে, পোর্টফলিও কিভাবে সাজাতে হয় এবং ম্যানেজ করতে হয় সেই বিষয়ে এক দমই ধারণা থাকে না। পোর্টফলিও কিভাবে সাজাতে হয়, এটা অনেক অভিজ্ঞ বিনিয়োগোকারীকে প্রশ্ন করলেও ভালো ভাবে উত্তর দিতে পারেন না। নতুন এবং পুরাতন বিনিয়োগকারীদেরকে কিভাবে পোর্টফলিও সাঁজাতে হয় সে বিষয়ে কিছু কার্যকরি পরামর্শ তুলে ধরা হলো। আশা করছি এই কাজগুলো করলে আপনি একটি সুন্দর পোর্টফলিও তৈরি করতে পারবেন এবং সহজে ম্যানেজও করতে পারবেন।

১. আপনার পোর্টফোলিও সাইজের উপর নির্ভর করবে আপনি কতগুলো শেয়ারের ইনভেস্ট করবেন। এক থেকে দুই লক্ষ টাকার ইনভেস্ট সাইজ হলে চেষ্টা করতে হবে সর্বোচ্চ ৩ টি শেয়ার কিনে রাখার জন্য। তিন থেকে ছয় লক্ষ টাকা হলে ৪ টি শেয়ার, সাত থেকে দশ লক্ষ টাকার কম হলে ৫ টি এবং দশ লক্ষ বা তার বেশি হলে সর্বোচ্চ ৬ টি শেয়ার পোর্টফলিওতে রাখার জন্য। এতে আপনি ঐ কোম্পানিগুলোকে অনেক বেশি মনিটর করতে পারবেন। আর যদি এর থেকে বেশি শেয়ার কিনে থাকেন তাহলে সব গুলো শেয়ার মনিটর করতে সমস্যা হবে। কাঙ্ক্ষিত পরিমান লাভ নাও করতে পারেন।

২. প্রথম অবস্থাতে মোট ইনভেস্টমেন্টের সর্বোচ্চ ৬০% টাকার শেয়ার কেনার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বাকি ৪০% অপরচুনিটি মানি হিসাবে রেখে দিতে হবে। যাতে ভালো কোন কোম্পানির শেয়ার যদি অনেক কম দামে পাওয়া যায় সেই শেয়ার কিনার জন্য। আবার আপনি ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন কিন্তু কোন কারন ছাড়াই দাম কমে গিয়েছে। সেই অপরচুনিটি কাজে লাগানোর জন্য এই অবিশিষ্ট টাকা ব্যবহার করতে হবে।

৩. এরপর আপনি আপনার টাইম ফ্রেম সেট করে নিবেন অর্থাৎ যে সময় পর্যন্ত হোল্ড করতে পারবেন সেটা ঠিক করে নিতে হবে (উক্ত সময়ের মধ্যে আপনার শেয়ার বিক্রি করার প্রয়োজন হবে না)। আপনি যদি ১ বছরের কম সময়ের জন্য শেয়ার হোল্ড করতে চান তাহলে সামনে যে সকল কোম্পানির ডিভিডেন্ড রয়েছে সেই সকল কোম্পানিকে টার্গেট করে ইনভেস্ট করতে হবে। অর্থাৎ সামনে যদি ডিসেম্বর ক্লোজিং থাকে তাহলে ব্যাংক, ফাইন্যান্স, ইন্সুরেন্স, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ইনভেস্ট করতে হবে। তাহলে ডিভিডেন্ডের আগে ভালো লাভ আশা করতে পারেন। আবার যদি ২-৫ বছর অর্থাৎ লং টার্মের জন্য ইভেস্ট করতে চান তাহলে ভালো ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়, ইপিএসে গ্রোথ আছে এবং স্পন্সর, ডিরেক্টর, ইন্সটিটিউশন শেয়ার হোল্ডিং ভাল এমন শেয়ারকে টার্গেট করতে হবে। এসব তথ্য আপনি ডিএসইর ওয়েবসাইটে পাবেন। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করতে হবে না এমন ক্যাপাসিটি থাকলে লং টার্মের জন্য ইনভেস্ট করাই আদর্শ।

৪. শেয়ার কেনার আগে ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন (যদি সম্ভব হয় ২ বছর) দাম দেখে উক্ত শেয়ারের সীমা বের করতে হবে। এর পর সর্বনিম্ন দামের দিকে আসলে কয়েক ধাপে শেয়ার কেনার চেষ্টা করতে হবে।

৫. সব সময় বিনিয়োগের জন্য একটি ওয়াচ লিস্ট তৈরি করে রাখতে হবে। কারন আপনি কোন শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার পর যাতে নতুন ভাবে এনালাইসিস করে শেয়ার বের করতে না হয়। এতে অনেক সময় অপচয় হবে। এতে আপনার অপরচুনিটি লস হতে পারে।

৬. লং টার্মের জন্য ইনভেস্ট করলে অবশ্যই ডিভিডেন্ড পে-আউট রেশিও বা ডিভিডেন্ড ইল্ড বের করে নিতে হবে। যাতে আপনি বুঝতে পারবেন কত টাকা ইনভেস্ট করে কত টাকা পাবেন।

৭. যে শেয়ারই কিনুন না কেন, ওই শেয়ার সম্পর্কে সকল নিউজ কালেক্ট করতে হবে, এনালাইসিস করতে হবে এবং ওই নিউজের প্রভাব কেমন পরবে সেটা ধারনা করতে হবে।

৮. বাজার সম্পর্কে নিয়মিত ধারনা রাখতে হবে। যদি টোটাল মার্কেট ডাউন ট্রেন্ডে থাকে তাহলে সর্ট টার্মের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। লাভ হলে নিয়ে নিতে হবে। নির্দিষ্ট একটি লস নেয়ার সীমা তৈরি করতে হবে যাকে স্টপ লস বলে অর্থাৎ আপনি যদি ঠিক করেন কোন একটি শেয়ার ৫% লস হলে আপনি বিক্রি করে দিবেন সেটা হচ্ছে আপনার স্টপ লস লেভেল। আবার আপ ট্রেন্ড মার্কেট হলে লং টার্মের জন্য ইনভেস্ট করা অধিক লাভ জনক।

৯. যদি কেউ এক্টিভ শেয়ার ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে চেষ্টা করুন ভালো লাভ অর্থাৎ ৫-১০% শর্টটার্ম (৩ মাস) হলে শেয়ার সেল করতে। ঘন ঘন বাই সেল করলে আপনার ঝুকির পরিমান বেড়ে যাবে। এখন ধরুন, যদি আপনার লাভ ৫% হয় এবং আপনি ধারনা করছেন ঐ শেয়ারের দাম আরও বাড়বে এমন সময় আমরা পরামর্শ দিব আপনি টোটাল হোল্ডিংয়ের ৫০% বিক্রি করতে। এর পর ধাপে ধাপে টোটাল হোল্ডিঙয়ের ২৫% করে বিক্রি করুন। এতে আপনার ইক্যুইটি ভ্যালু বৃদ্ধি পাবে এবং লস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।
সূত্রঃ মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here