বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: একদিকে মহামারি করোনার কারণে আয় কমেছে মানুষের, অন্যদিকে তেল ও চাল-ডালের পর এবার বেড়েছে ডিম ও সবজির দাম। ফলে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ আবারও পড়েছেন চরম বিপাকে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পানি না কমার আগ পর্যন্ত কমবে না সবজির দাম। ঝড়-বৃষ্টি ও বর্ষার কারণে নতুন করে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সবজি সরবরাহ কমেছে। আর এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা সব সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। এ অবস্থায় অস্বস্তির মধ্যেই আরও কিছুদিন কাটাতে হবে স্বল্প আয়ের মানুষের, এমনটাই জানালেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

রোববার (১৩ জুন) রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা এবং মালিবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিম বিক্রি করছেন ৩৫-৩৭ টাকা হালিতে। অথচ গত সপ্তাহে ডিম বিক্রি হয়েছিল ৩২-৩৪ টাকা হালিতে।

সবজির মধ্যে করলা, উস্তা, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজিতে। শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে সাদা বেগুন। আর চিচিঙ্গা, ঝিঙা, ধুন্দুল, বরবটি, কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। পেঁপে, পটল, ঢেঁড়স, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব 

অথচ এক সপ্তাহ আগে সবজিগুলো বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা দরে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি সবজির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। এছাড়া কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে। তবে বাজারের দোকানগুলোর তুলনায় ভ্যানে করে রাস্তায় সবজি বিক্রি হচ্ছে কিছুটা কমে। হঠাৎ করে সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মধ্যবাড্ডার ব্যবসায়ী মবিনুল হক বলেন, তিন-চার দিন ধরে সবজির দাম বাড়ছে। বৃষ্টি ও নতুন পানির কারণে বাজারে সবজি আসছে কম। তাই দাম বাড়ছে।

একই কথা জানালেন মালিবাগ কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সুজন সরকার। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, বর্ষার কারণে এখন প্রতিনিয়তই পানি বাড়ছে, সবজি খেত তলিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অতি বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে গেছে, তাই চাহিদা অনুসারে সবজি আসছে না বাজারে। এ কারণে সবজির বাজারে আগুন। সোজা কথা পানি না কমলে সবজির দাম কমবে না কিছুদিন।

রামপুরায় বাজার করতে আসা ব্যবসায়ী মিন্টু সরকার বলেন, শাক-সবজি সবকিছুর দাম বাড়তি। তিনি বলেন, ১০০ টাকার চিংড়ি মাছ কিনেছি। এখন সবজির দাম দেখে আর সামনে হাঁটতে ইচ্ছে করছে না। তাই ২০ টাকার পুঁইশাক কিনলাম।

তিনি বলেন, বেগুনের কেজি ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, ডাটা শাক ৫ টাকা, আলুর কেজি ২৫ টাকা। এত দাম শুনে এক কেজি আলু আর এক আঁটি পুঁইশাক নিলাম।

বাজারে ডিমের পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজিতে। আর কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৫০ টাকা কেজি দরে। গরুর মাংস ৫৮০-৬০০ টাকা, খাসি ৮০০-১০০০ টাকা, ব্রয়লার ১৩০-১৩৫ টাকা, লেয়ার ২২০-২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। রসুনের মধ্যে ছোট দানার দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৯০ টাকা কেজিতে। আর ভারতীয় মোটা দানার রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা কেজিতে। ডালের মধ্যে ভালো মানের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা কেজিতে। আর ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মধ্যম মানের মসুর ডাল।

বাজারে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪শ থেকে ১৬শ টাকা দরে। ৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২শ টাকা দরে। বড় চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯শ টাকা কেজিতে। গলদা চিংড়ি ৭শ থেকে ৮শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৩০-৩৬০ টাকা, কাতল ৩০০-৩৩০ টাকা, পাঙাশ ১৯০-২২০ টাকা, পাবদা ৫৫০-৬০০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ১৪০-১৫০ টাকা এবং বড় তেলাপিয়া মাছ ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকা/এনইউ

আরও পড়ুন: