দর্শক-নির্মাতা-শিল্পীদের প্রশংসায় ভাসছে ‘চিরকাল আজ’

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ‘গল্পটা লেখার জন্য আমি এক মাসের বেশি সময় ধরে গবেষণা করেছি। জানার ও উপলব্ধির চেষ্টা করেছি। এরপর আটদিন সময় নিয়ে লিখেছি চিত্রনাট্য। গল্পটা একেবারে অচেনা এবং জটিল। তাই দর্শকদের সহজে আকৃষ্ট করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে ছিল সংশয়। কিন্তু আমি চেয়েছি একটা ব্যতিক্রম গল্প তুলে ধরতে।’

ঢাকা পোস্ট-এর সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো বলেছেন সময়ের আলোচিত নির্মাতা ভিকি জাহেদ। প্রসঙ্গ- ঈদ উপলক্ষে প্রচার হওয়া নাটক ‘চিরকাল আজ’। এর মূল দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। ঈদের দ্বিতীয় দিন রাত সাড়ে ৭টায় এটি দেখানো হয় আরটিভিতে। এরপর উন্মুক্ত করা হয় তাদের ইউটিউব চ্যানেলে।

ভিউর বিচারে না মেপে ‘চিরকাল আজ’কে মাপতে হবে কনটেন্ট হিসেবে; দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসার মাপকাঠিতে। নাটকটির মন্তব্যের ঘরে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকটি কমেন্ট প্রশংসাসূচক। অধিকাংশের মতে, নিশো-মেহজাবীনের অন্যতম সেরা পারফর্মেন্স রয়েছে এ নাটকে। আর গল্প-চিত্রনাট্যে তো মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে দিয়েছেন নির্মাতা ভিকি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

কেবল দর্শকরা নয়, নাট্যাঙ্গনের নির্মাতা-অভিনয়শিল্পীরাও এই নাটকের প্রশংসায় মেতে আছেন। অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস বলেছেন, “ভিকি জাহেদের পরিচালনায় ‘চিরকাল আজ’ দেখলাম। তিনি গল্প বলা এবং নির্মাণে সবসময় বৈচিত্র রাখেন। দেখে ভালো লাগে। মেহজাবীনের প্রশংসা দেখে আগ্রহ নিয়ে দেখলাম। অনেক পরিণত হয়েছে। সাধনা, পরিশ্রম দেখার মতো। সামনে আরও অনেক এগিয়ে যাবে। আফরান নিশো যে নীরব অভিনয় এবং রিঅ্যাকশন দিয়ে গেছে, সুযোগ করে দিয়েছে মেহজাবীনকে অভিনয় করার, তা দেখার মতো। এই পর্যায়ে এসে ইনসিকিউর্ড না হয়ে শুধু চরিত্রের মধ্যে থাকা, দারুণ! সাবেরী আলম আপা কিশোর বয়স থেকে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। ভালো গল্প, পরিচালক, অভিনেতাদের পেলে মায়ের চরিত্র কত আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। আমি আমার কলিগদের ফিকশন দেখি, উপভোগ করি, উৎসাহ দেই। তাই তো হওয়া উচিৎ। তাই না?”

নির্মাতা ইমরাউল রাফাত লিখেছেন, “মুগ্ধ হলাম ভিকি জাহেদ। অসাধারণ গল্প বলা। সিনেমাটোগ্রাফিও চমৎকার। মেহজাবীন অভিনেত্রী হিসেবে স্বর্ণালী মাইলফক তৈরি করেছে। আফরান নিশো, আপনার অভিনয়ে মুগ্ধ। বিশেষ করে যে দৃশ্যে আপনি বলেছেন, ‘তিথি আমি তোমাকে ভালোবাসি’।”

অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ লিখেছেন, ‘ভিকি জাহেদ, এবার ফিল্মটা হয়ে যাক! আলো ছড়াতে থাকো, সৃষ্টি করতে থাকো!’

অভিনেত্রী তাসনুভা এলভিন ফেসবুকে লিখেছেন, “চিরকাল আজ’ নাটকটা এইমাত্র দেখা শেষ করলাম। ভিকি জাহেদ ভাইয়া, আমি মুগ্ধ। কী লিখব, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।”

নির্মাতা হাবিব শাকিল বলেছেন, “চিরকাল আজ’ দেখলাম এবং অনেকক্ষণ ভাবলাম। শেষ কবে নাটক দেখে এতো ভেবেছি, তা জানা নেই। অসম্ভব মুগ্ধতা প্রিয় মেহজাবিন, নিশো ভাই, ভিকি জাহেদ। ভালোবাসা তোমাদের।”

গায়িকা আতিয়া আনিসা লিখেছেন, ‘ভিকি জাহেদ ভাইয়া আমি বুঝতে পারছি না, কী বলবো! কী চমৎকার নির্মাণ! আমি নির্বাক। আফরান নিশো ভাইয়া এবং বিশেষ করে মেহজাবীন চৌধুরী আপু, অনেক অনেক ভালো করেছো তোমরা। স্যালুট তোমাদের।’

‘চিরকাল আজ’ নাটকের গল্পের সূত্র ইংল্যান্ডের মিউজিশিয়ান ক্লাইভ ওয়েরিং। তিনি বিরলতম রোগ এন্টারোগ্রেড এবং রেট্রোগ্রেড অ্যামনেসিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। যে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে নিজের স্মৃতি ধরে রাখতে পারেন, এরপর সব ভুলে যান। সেই রোগের বিস্তারিত জানার পর ক্লাইভ ওয়েরিংকে নিয়ে গবেষণা করেন ভিকি। তারপর গল্পটি সাজান।

এ গল্পের চিত্রনাট্য পড়তে গিয়ে মেহজাবীন চৌধুরী রীতিমতো মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অভিনেত্রী জানান, তার পুরো ক্যারিয়ারে এটাই একমাত্র চিত্রনাট্য, যেটা তিনি দুই থেকে আড়াই দিন পড়েছেন। গল্প এবং চরিত্র এতোটাই জটিল যে, তার মস্তিষ্ট সেটাকে গ্রহণ করতেও যথেষ্ট সময় লেগেছে। মেহজাবীনের ভাষ্য, ‘কোনো কাজ করার আগে জীবনেও এতোটা নার্ভাস, কনফিউজড ফিল করিনি’।

অন্যদিকে আফরান নিশো করলেন ভিকি জাহেদের প্রশংসা। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছোট ভিকি জাহেদ হাঁটি হাঁটি করে বড় হচ্ছে। দোয়া করি অনেক বড় হও। সৎ থাকো। ভিকি তুই ফাটাফাটি মাইরি! সময় অনেক দূরে নাই। ভালোবাসা।’

ঢাকা/এনইউ 

আরও পড়ুন: