দারিদ্র্যমুক্ত, শিক্ষিত, উন্নত, যোগ্য ও সমৃদ্ধ জাতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে বুধবার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খবর: ইউএনবি।

তিনি বলেন, “আমরা দারিদ্র্যমুক্ত, শিক্ষিত, উন্নত, দক্ষ, সমৃদ্ধ বাঙালি জাতিকে জ্ঞানের মাধমে গড়ে তুলব এবং জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করব।”

সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দের (বিপিএটিসি) নকশা ও পরিকল্পনার অনুমোদনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা দেশকে স্বাধীন করেছেন এবং সরকার স্বাধীন দেশ ও জাতিকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, “বিশ্ব এগিয়ে চলেছে, আমরা অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে এগিয়ে যেতে চাই, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল দেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে এবং মাথা উঁচু করে বিশ্ব অঙ্গনে চলবে, আমরা দেশকে সেভাবেই গড়তে চাই।”

প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন টিএসসি, পাবলিক লাইব্রেরি, জাতীয় জাদুঘর এবং শিক্ষার্থীদের হল ও পুকুরগুলোর দ্রুত মেরামত ও সংস্কারের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় এখন বন্ধ থাকায় আমরা দ্রুত এই কাজগুলো শুরু এবং দ্রুত সম্পন্ন করতে পারি।”

তিনি তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, আমিও ছিলাম, তাই এখানে কাজ করতে অন্য রকম একটি অনুভূতি কাজ করে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য)।”

শেখ হাসিনা বলেন, পাবলিক লাইব্রেরিটি যথেষ্ট পুরনো হয়ে গেছে, জাতীয় জাদুঘরটি এখনই ঠিক কীভাবে ছেড়ে দেয়া যায়, তবে পুকুরটি সংস্কার করা উচিত এবং পাবলিক লাইব্রেরি তার একটা ল্যান্ডস্কেপ করে সেখানেও খুব সুন্দরভাবে একটা মর্ডার্ন পাবলিক লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম এবং আমাদের সাইবার ক্যাফে সবকিছু মিলিয়ে ওটাকে আরও সুন্দরভাবে, নতুনভাবে তৈরি করা।

তিনি বলেন, কোভিড -১৯ এর কারণে অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এই সংস্কার কাজ করা উচিত।

“এই কাজের জন্য এখনই সঠিক সময়, পুরাতন ছাত্র হল এবং পুকুরগুলোর সংস্কার করা উচিত, কিছু হল খুব বেশি পুরানো, যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে,” বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এই কাজ শেষ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষায় থাকবে না।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়ার আগে আমি নিজেই এই কাজটি করতে চাই, সরকার অর্থায়ন করবে।”

এদিকে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) নির্মিতব্য ২০ তলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের নকশা এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদর দপ্তর নির্মাণের পরিকল্পনার অনুমোদন দেন।

সূত্র জানায়, আরও দক্ষ ও যোগ্য জনবল তৈরির লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বিপিএটিসির সক্ষমতা জোরদার করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে সরকার বিপিএটিসির প্রশিক্ষণ সক্ষমতা জোরদার করা” শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার অধীনে একটি ২০ তলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হবে।

২০১৭ সালের ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।

প্রকল্পের আওতায় বিপিএটিসি কমপ্লেক্সে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি একটি ছাত্রাবাস ভবন, একটি মেডিকেল সেন্টার এবং একটি ক্যাফেটেরিয়াও নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটি শেষ হলে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনসেবাতে আরও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন।