হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জেলা পুলিশ সুপারসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সংঘর্ষে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আজ রোববার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সকাল থেকেই হেফাজত ও পুলিশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের হরতাল কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, পুরানা পল্টন ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

আজ রোববার সকালেই হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা লাঠিসোঁটা হাতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এবং এর আশপাশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অবস্থান দেখা গেছে। আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন সতর্ক অবস্থানে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেফাজতের কর্মীরা লাঠি হাতে মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় ইট ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: বিজনেসজার্নালবিজনেসজার্নাল.বিডি

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হেফাজতকর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অবস্থান নিলে পুরানা পল্টন থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারা খানিক পরপরই মিছিল করছেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতারা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আসেন। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণ হরতালকে সমর্থন জানিয়েছে। তারা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। এটাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে সরকার। তিনি আরও বলেন, বন্দুকের নল ও সন্ত্রাস দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। ডান-বাম ভেদাভেদ ভুলে সব পক্ষকে নিয়েই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

হেফাজতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাও বক্তৃতা করেন। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনের দিকে এগোতে থাকে মিছিলটি। এ সময় মুক্তাঙ্গনের দিকে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মৃদু উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নিলে হেফাজতের মিছিলটি কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে চলে যায়।

এদিকে বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় হেফাজত ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হতে দেখা গেছে। সেখানে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে মাদ্রসাছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। উভয় পক্ষ সতর্ক অবস্থানে আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত আছেন।

এর আগে সকালে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা সড়কের কয়েকটি স্থানে টায়ার, গাছের গুঁড়ি ও বাঁশে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে হরতাল চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি ছুড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যানবাহন চালু করার চেষ্টা চলছে। সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন।

এদিকে হরতালের সমর্থনে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার টোলপ্লাজা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ, পিলার ও পাথর ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুর দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকা থেকে ধীতপুর পর্যন্ত বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্স ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়েছে। হেফাজতে ইসলামের দাউদকান্দি উপজেলা শাখার নেতা আবু বকর সিদ্দিক ও আবু ইউসুফ জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

মহাসড়কের শান্তিপূর্ণ অবস্থা ঠিক রাখতে সকাল থেকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. জুয়েল রানা, দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম, র‌্যাব-১১ সদস্য, কুমিল্লার ডিবি ও রিজার্ভ পুলিশের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের বিরুদ্ধে ‘প্রতিবাদী মুসল্লিদের ওপর হামলা ও হত্যার’ প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম আজ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। হেফাজতের আজকের হরতাল কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

বিজনেসজার্নাল/ঢাকা/এনইউ

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here