১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪

পদ্মা প্রিন্টার্স ইস্যুতে এলআর গ্লোবালের নয়-ছয়!

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪
  • / ১০৩২৮ বার দেখা হয়েছে

অধ্যাপক খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বাধীণ কমিশনের সময় এল.আর গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ ইসলাম কুকর্ম করার সাহস করতেন না। করতে গেলে তাকে শাস্তির আওতায় আসতে হতো। তবে তিনি বর্তমান কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে যা ইচ্ছা, তাই করে যাচ্ছে না। পুরো মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রিকেই ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। সেদিকে অবশ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোন নজর নেই।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

সম্প্রতি শেয়ারবাজারে এক নেক্কারজনক কলঙ্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এল.আর গ্লোবালের রিয়াজ ইসলামের নেতৃত্বাধীন সংঘবদ্ধ চক্র। যারা একটি ধংস হয়ে যাওয়া কোম্পানিকে মুনাফা দেখিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করে। এতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় সাধারন বিনিয়োগকারীদের কয়েকটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে। যেগুলো এল.আর গ্লোবালের রিয়াজ পরিচালনা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম এসএমই মার্কেটে পদ্মা প্রিন্টার্সকে তালিকাভুক্ত করার সব আয়োজন করে ফেলেন। গত বছরের জুনে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে স্রেফ কাগজে-কলমের ব্যবসায় লোকসানি কোম্পানিটিকে লাভজনক দেখিয়েছেন। এমনকি শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য বা এনএভির হিসাবে সম্পদশালী কোম্পানিতে রূপান্তর করেছেন।

এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির শেয়ারদর আকাশে চড়াতে যাতে এর খারাপ ভাবমূর্তি বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এ জন্য পদ্মা প্রিন্টার্সের নামই বদলে নিয়েছেন। নতুন নাম দিয়েছেন ‘কোয়েস্ট বিডিসি’।

আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে আসতে চায় জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

বিদেশে প্রতারণা করতে গিয়ে ধরা খাওয়ার আগে দেশে পালিয়ে আসেন রিয়াজ। তিনি এরপরে দেশের শেয়ারবাজারে ঢুকে এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাঁধে চড়ে বসেছেন। কায়দা করে শেয়ারবাজারের টাকা নিজের করে নিচ্ছেন ধাপে ধাপে। মতিঝিলপাড়া তাঁর শেষ কেরামতি দেখেছে ২০২৩ সালের জুনে। ছয় থেকে সাত বছর মেয়াদ আছে– এমন ছয় মিউচুয়াল ফান্ডের টাকায় নামসর্বস্ব ‘পদ্মা প্রিন্টার্স’ কোম্পানির ৫১ শতাংশ শেয়ার চড়া দরে কিনে নেন তিনি। বিস্ময়কর হলো, পদ্মা প্রিন্টার্স নিজেই ‘ফোকলা’। ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত ভবন ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আর কিছুই নেই। শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীকে লভ্যাংশ না দেওয়া এবং বার্ষিক সাধারণ সভা না করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০০৯ সালে মূল শেয়ারবাজার থেকে তালিকাচ্যুত করে ওটিসিতে পাঠিয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পদ্মা প্রিন্টার্সের শেয়ার কেনা মিউচুয়াল ফান্ড হলো– এআইবিএল প্রথম, ডিবিএইচ প্রথম, গ্রিনডেল্টা, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ, এমবিএল প্রথম ও এনসিসি ব্যাংক প্রথম। ২০১০ সালের পরের তিন বছর এসব ফান্ডে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারী। ‘অন্ন দেখে দেবে ঘি, পাত্র দেখে দেবে ঝি’– পদপদবিতে বড় দেখে রিয়াজের হাতে টাকা তুলে দিয়ে এ প্রবাদবাক্যের মর্ম হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ছয় মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারী। তাদের বিনিয়োগের বাজারমূল্য কমে এখন অর্ধেকে নেমেছে।

বিনিয়োগকারীর মাথায় কাঁঠাল ভেঙে নিজের লাভ আগেভাগে বুঝে নিতে আরও কৌশল করেছেন রিয়াজ। এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্তির শর্ত পূরণে ছয় ফান্ডের নামে কেনা সব শেয়ার তিনি লক-ইন (ঘোষণা ছাড়া বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা) রেখেছেন। তবে যে কোনো সময় শেয়ার বিক্রি করতে এলআরজি ভেঞ্চার এবং প্লেসমেন্টহোল্ডারের শেয়ারে লক রাখেননি।

তবে রিয়াজের সব চাতুরী বুঝতে পেরে বেঁকে বসেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ছয় ফান্ডের বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে মাসখানেক আগে এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্তির আবেদন নাকচ করে দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনা পর্ষদ।

এ ঘটনায় বিএসইসির ওই শীর্ষ কর্মকর্তা স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের ওপর চটেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যেসব আইনি কারণ দেখিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ পদ্মার তালিকাভুক্তি আটকে দিয়েছে, সেসব আইন পরিপালন থেকে অব্যাহতির পরিকল্পনা করছেন ওই শীর্ষ কর্তা; যাতে ওই অব্যাহতি নিয়ে পদ্মা প্রিন্টার্স (কোয়েস্ট বিডিসি) স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারে।

বিএসইসির ওই শীর্ষ কর্তা ক্ষমতা দেখিয়ে এবারই যে প্রথম এলআর গ্লোবালকে সুবিধা দেওয়ার ছক কষছেন, তা নয়। বেআইনি ও স্বার্থ পরিপন্থি বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডের দায়ে ২০১৯ সালে ড. এম খায়রুল আলমের নেতৃত্বাধীন বিএসইসি ডিবিএইচ প্রথম ও গ্রিনডেল্টা নামে দুই মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনা থেকে এলআর গ্লোবালকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে বিএসইসির আগের সিদ্ধান্ত বদলে দিয়ে শীর্ষ ওই কর্মকর্তা ফান্ড দুটির দায়িত্ব ফের এলআর গ্লোবালকে দেন। এ জন্য বিনিয়োগকারী বা সংশ্লিষ্ট কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

২০২১ সালে বিএসইসির শীর্ষ ওই কর্মকর্তা যখন আগের কমিশনের সিদ্ধান্ত বদলে দুই ফান্ডের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তখন তার বিরোধীতা করে তাকে দাপ্তরিক চিঠি দেন মিউচুয়াল ফান্ড বিভাগের তৎকালীন কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি ওই চিঠিতে ফান্ড ফেরত নয়, নানা অপরাধ ও অপকর্ম করার কারণে এলআর গ্লোবালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দেন।

রিয়াজের স্বার্থ বাস্তবায়নে বিএসইসির ওই শীর্ষ কর্মকর্তার এমন উদারহস্ত হওয়ার কারণ উভয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত সখ্য। ২০২২ সালে বিএসইসির ওই কর্মকর্তার বড় ছেলে যুহায়ের ইসলামকে অংশীদার করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে ‘সিগমা ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন রিয়াজ। কোম্পানিটির তিন অংশীদারের একজন যুহায়ের।

২০১৪ সালেও রিয়াজ ইসলাম ও তাঁর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির বিরুদ্ধে নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানি থাইরোকেয়ারে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ ছিল। ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর এ বিনিয়োগ করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইন না মেনে ফান্ডের টাকা খরচ করারও অভিযোগ ছিল। এমনকি যৌক্তিক কারণ ছাড়া ফান্ডের গচ্ছিত অর্থ এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে নেওয়ার অভিযোগ বিএসইসির তদন্তে ধরা পড়েছিল।

এসব অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এলআর গ্লোবালকে বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করেছিল বিএসইসি। এ ঘটনায় ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে ২৫ লাখ টাকা এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনিয়ম তুলে না ধরায় অডিট প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসিকেও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

x

পদ্মা প্রিন্টার্স ইস্যুতে এলআর গ্লোবালের নয়-ছয়!

আপডেট: ১২:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

অধ্যাপক খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বাধীণ কমিশনের সময় এল.আর গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ ইসলাম কুকর্ম করার সাহস করতেন না। করতে গেলে তাকে শাস্তির আওতায় আসতে হতো। তবে তিনি বর্তমান কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে যা ইচ্ছা, তাই করে যাচ্ছে না। পুরো মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রিকেই ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। সেদিকে অবশ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোন নজর নেই।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

সম্প্রতি শেয়ারবাজারে এক নেক্কারজনক কলঙ্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এল.আর গ্লোবালের রিয়াজ ইসলামের নেতৃত্বাধীন সংঘবদ্ধ চক্র। যারা একটি ধংস হয়ে যাওয়া কোম্পানিকে মুনাফা দেখিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করে। এতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় সাধারন বিনিয়োগকারীদের কয়েকটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে। যেগুলো এল.আর গ্লোবালের রিয়াজ পরিচালনা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম এসএমই মার্কেটে পদ্মা প্রিন্টার্সকে তালিকাভুক্ত করার সব আয়োজন করে ফেলেন। গত বছরের জুনে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে স্রেফ কাগজে-কলমের ব্যবসায় লোকসানি কোম্পানিটিকে লাভজনক দেখিয়েছেন। এমনকি শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য বা এনএভির হিসাবে সম্পদশালী কোম্পানিতে রূপান্তর করেছেন।

এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির শেয়ারদর আকাশে চড়াতে যাতে এর খারাপ ভাবমূর্তি বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এ জন্য পদ্মা প্রিন্টার্সের নামই বদলে নিয়েছেন। নতুন নাম দিয়েছেন ‘কোয়েস্ট বিডিসি’।

আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে আসতে চায় জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

বিদেশে প্রতারণা করতে গিয়ে ধরা খাওয়ার আগে দেশে পালিয়ে আসেন রিয়াজ। তিনি এরপরে দেশের শেয়ারবাজারে ঢুকে এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাঁধে চড়ে বসেছেন। কায়দা করে শেয়ারবাজারের টাকা নিজের করে নিচ্ছেন ধাপে ধাপে। মতিঝিলপাড়া তাঁর শেষ কেরামতি দেখেছে ২০২৩ সালের জুনে। ছয় থেকে সাত বছর মেয়াদ আছে– এমন ছয় মিউচুয়াল ফান্ডের টাকায় নামসর্বস্ব ‘পদ্মা প্রিন্টার্স’ কোম্পানির ৫১ শতাংশ শেয়ার চড়া দরে কিনে নেন তিনি। বিস্ময়কর হলো, পদ্মা প্রিন্টার্স নিজেই ‘ফোকলা’। ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত ভবন ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আর কিছুই নেই। শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীকে লভ্যাংশ না দেওয়া এবং বার্ষিক সাধারণ সভা না করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০০৯ সালে মূল শেয়ারবাজার থেকে তালিকাচ্যুত করে ওটিসিতে পাঠিয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পদ্মা প্রিন্টার্সের শেয়ার কেনা মিউচুয়াল ফান্ড হলো– এআইবিএল প্রথম, ডিবিএইচ প্রথম, গ্রিনডেল্টা, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ, এমবিএল প্রথম ও এনসিসি ব্যাংক প্রথম। ২০১০ সালের পরের তিন বছর এসব ফান্ডে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারী। ‘অন্ন দেখে দেবে ঘি, পাত্র দেখে দেবে ঝি’– পদপদবিতে বড় দেখে রিয়াজের হাতে টাকা তুলে দিয়ে এ প্রবাদবাক্যের মর্ম হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ছয় মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারী। তাদের বিনিয়োগের বাজারমূল্য কমে এখন অর্ধেকে নেমেছে।

বিনিয়োগকারীর মাথায় কাঁঠাল ভেঙে নিজের লাভ আগেভাগে বুঝে নিতে আরও কৌশল করেছেন রিয়াজ। এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্তির শর্ত পূরণে ছয় ফান্ডের নামে কেনা সব শেয়ার তিনি লক-ইন (ঘোষণা ছাড়া বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা) রেখেছেন। তবে যে কোনো সময় শেয়ার বিক্রি করতে এলআরজি ভেঞ্চার এবং প্লেসমেন্টহোল্ডারের শেয়ারে লক রাখেননি।

তবে রিয়াজের সব চাতুরী বুঝতে পেরে বেঁকে বসেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ছয় ফান্ডের বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে মাসখানেক আগে এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্তির আবেদন নাকচ করে দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনা পর্ষদ।

এ ঘটনায় বিএসইসির ওই শীর্ষ কর্মকর্তা স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের ওপর চটেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যেসব আইনি কারণ দেখিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ পদ্মার তালিকাভুক্তি আটকে দিয়েছে, সেসব আইন পরিপালন থেকে অব্যাহতির পরিকল্পনা করছেন ওই শীর্ষ কর্তা; যাতে ওই অব্যাহতি নিয়ে পদ্মা প্রিন্টার্স (কোয়েস্ট বিডিসি) স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারে।

বিএসইসির ওই শীর্ষ কর্তা ক্ষমতা দেখিয়ে এবারই যে প্রথম এলআর গ্লোবালকে সুবিধা দেওয়ার ছক কষছেন, তা নয়। বেআইনি ও স্বার্থ পরিপন্থি বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডের দায়ে ২০১৯ সালে ড. এম খায়রুল আলমের নেতৃত্বাধীন বিএসইসি ডিবিএইচ প্রথম ও গ্রিনডেল্টা নামে দুই মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনা থেকে এলআর গ্লোবালকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে বিএসইসির আগের সিদ্ধান্ত বদলে দিয়ে শীর্ষ ওই কর্মকর্তা ফান্ড দুটির দায়িত্ব ফের এলআর গ্লোবালকে দেন। এ জন্য বিনিয়োগকারী বা সংশ্লিষ্ট কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

২০২১ সালে বিএসইসির শীর্ষ ওই কর্মকর্তা যখন আগের কমিশনের সিদ্ধান্ত বদলে দুই ফান্ডের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তখন তার বিরোধীতা করে তাকে দাপ্তরিক চিঠি দেন মিউচুয়াল ফান্ড বিভাগের তৎকালীন কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি ওই চিঠিতে ফান্ড ফেরত নয়, নানা অপরাধ ও অপকর্ম করার কারণে এলআর গ্লোবালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দেন।

রিয়াজের স্বার্থ বাস্তবায়নে বিএসইসির ওই শীর্ষ কর্মকর্তার এমন উদারহস্ত হওয়ার কারণ উভয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত সখ্য। ২০২২ সালে বিএসইসির ওই কর্মকর্তার বড় ছেলে যুহায়ের ইসলামকে অংশীদার করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে ‘সিগমা ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন রিয়াজ। কোম্পানিটির তিন অংশীদারের একজন যুহায়ের।

২০১৪ সালেও রিয়াজ ইসলাম ও তাঁর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির বিরুদ্ধে নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানি থাইরোকেয়ারে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ ছিল। ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর এ বিনিয়োগ করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইন না মেনে ফান্ডের টাকা খরচ করারও অভিযোগ ছিল। এমনকি যৌক্তিক কারণ ছাড়া ফান্ডের গচ্ছিত অর্থ এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে নেওয়ার অভিযোগ বিএসইসির তদন্তে ধরা পড়েছিল।

এসব অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এলআর গ্লোবালকে বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করেছিল বিএসইসি। এ ঘটনায় ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে ২৫ লাখ টাকা এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনিয়ম তুলে না ধরায় অডিট প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসিকেও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ঢাকা/এসএইচ