পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: বেশকিছু শর্তে বন্ধ ঘোষিত সরকারি পাটকলের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে ৫৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অনুকূলে এই বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ‘পরিচালন ঋণ’ খাত থেকে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও দুই দফায় শ্রমিকদের পাওনা বাবদ ২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া শর্তে বলা হয়, বরাদ্দ করা অর্থ নির্ধারিত খাতের বাইরে অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। বরাদ্দও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা বাবদ ৩২৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১ হাজার ৯৮০ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাওনাসহ ২ হাজার ২১৭ জন কাঁচা পাট সরবরাহকারীর পাওনা বাবদ ২৩৫ কোটি টাকা এবং স্টোর এবং পরিবহনে সংশ্নিষ্ট ১ হাজার ১১৯ জনের পাওনা বাবদ ১২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। নির্ধারিত এ অর্থ সংশ্নিষ্টদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণ হিসেবে বিজেএমসিকে এ অর্থ দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ আগামী ২০ বছরে সরকারকে পরিশোধ করতে হবে। ৫ শতাংশ সুদে বছরে দুটি কিস্তিতে ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ১০ মে বিজেএমসিকে দেওয়া এক চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এসব শর্তের কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, খুব দ্রুতই সব পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে আগে থেকেই সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, তৃতীয় দফায় শ্রমিক এবং পাট সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের পর বিজেএমসির এ-সংক্রান্ত আর কোনো দায়দেনা থাকছে না।

ক্রমাগত লোকসানের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ পাটকলের সব বন্ধ ঘোষণা করেছে সররকার। ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এরপর থেকে পাটকলগুলোর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি স্থানীয় প্রশাসন এবং বিজেএমসির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। বন্ধ হওয়ার আগে মিলগুলোতে ২৬ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। গোল্ডেন হেন্ডশেকের মাধ্যমে তাদের সব পাওনা পরিশোধ এবং বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পুনরায় দ্রুততম সময়ে মিলগুলো চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে তিনটি মিল চালু হয়েছে। আরও ১০টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

সূত্রমতে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য শর্তের মধ্যে রয়েছে- বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকারের বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে এবং শ্রমিক ও সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের আগে লেনদেনের বিষয়টি সরকারি বিধিবিধানের আলোকে পুনরায় যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হতে হবে। কোনো অসংগতি দেখা দিলে দ্রুত তা সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বিজেএমসি এবং সংশ্নিষ্ট মিলকে। বিধিবহির্ভূতভাবে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হলে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। এ ছাড়া সংশ্নিষ্ট মিল অথবা বিজেএমসির বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো মামলা থাকলে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া মামলা প্রত্যাহারপূর্বক লিখিত আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পাওনা পরিশোধ করতে হবে। অব্যয়িত অর্থ জমা প্রদান করতে হবে সরকারি কোষাগারে।

ঢাকা/এসএ