বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার অনুমোদন রয়েছে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনজিও)। তবে সে অর্থ সংগ্রহে এনজিওগুলোকে মানতে হবে এমআরএর নীতিমালা। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) কর্তৃক একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি বিধিমালা, ২০১০-এর বিধি (১)(চ) ও বিধি ১৮(১)(ছ) অনুযায়ী ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠন কর্তৃক অথরিটি অনুমোদন সাপেক্ষে পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের উপযুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান নির্ণয়বিষয়ক একটি গাইডলাইন এ অথরিটি কর্তৃক প্রণয়ন করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় পুঁজিবাজার হতে তহবিল সংগ্রহ করতে ইচ্ছুক ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানকে ওই গাইডলাইন অনুসরণপূর্বক অথিরিটি হতে অনুমোদন গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। বিষয়টি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এমআরএর নীতিমালায় বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য এবং রূপান্তর অযোগ্য কুপনবাহী কিংবা জিরো কুপন বন্ডের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। যার মেয়াদ হবে সর্বনিম্ন দুই বছর। যোগ্য ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের বিপরীতে পাওনা কিংবা ঋণ পোর্টফোলিওর পুরো বা আংশিক অংশ সিকিউরিটাইজড করার জন্য সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (সম্পদভিত্তিক সিকিউরিটি ইস্যু) বিধিমালা ২০০৪ অনুযায়ী স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল (এসপিভি) গঠন করতে পারবে। মাইক্রো ও মাইক্রো এন্টারপ্রাইজদের অর্থায়নের জন্য এ তহবিল সংগ্রহ করা যাবে। ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল তহবিলের ৪০ শতাংশ বন্ড কিংবা সম্পদ সিকিউটিরাইজড করার মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে। এমআরএর কাছ থেকে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নেয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবশ্যই অনুমোদিত সংবিধান, সাধারণ কমিটি ও নির্বাহী কমিটি থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর অবশ্যই কর্মী বিধিমালা, পে স্কেল এবং একজন সার্বক্ষণিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্তের কমপক্ষে ১০ শতাংশ পরিমাণ সংরক্ষিত তহবিল এবং মোট আমানতের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ পরিমাণ তারল্য সঞ্চিতি থাকতে হবে। ঋণগ্রহীতা হিসেবে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ গ্রাহক থাকতে হবে এবং ঋণগ্রহীতাদের দেয়া মূল ঋণের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আমানত সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যূনতম ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে হবে। আর কমপক্ষে ২০০টি শাখার কার্যক্রম সচল থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমআরএর নির্ধারণ করে দেয়া মান অনুসারে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদে ঋণমান থাকতে হবে। এনজিওর আর্থিক অবস্থার বিষয়ে বলা হয়েছে, ঋণ আদায়ের হার ৯০ শতাংশ বা এর বেশি হতে হবে। বন্ড ইস্যুর পর ঋণ ও ইকুইটি অনুপাত ৯ঃ১ হারে থাকতে হবে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ শতাংশ বা এর কম হতে হবে। গত তিন বছরের উদ্বৃত্তের গড় প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ বা এর বেশি হতে হবে। তবে এক্ষেত্রে যেসব বছরে অনিবার্য পরিস্থিতি তৈরি হবে সেসব বছর বাদ যাবে। মোট সম্পদের ৮০ শতাংশ বা এর বেশি অর্থ ঋণগ্রহীতাদের ঋণ হিসেবে দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১৫ শতাংশ বা এর বেশি হতে হবে। সার্ভিস চার্জ থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৪০ শতাংশ বা এর কম বেতন বাবদ ব্যয় করা যাবে।

ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগ্রহ করা অর্থ পৃথক হিসাবের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে এবং প্রতি প্রান্তিকে এমআরএকে এর তথ্য জানাতে হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দেশনা লঙ্ঘন করে এবং অর্থ সংগ্রহের জন্য দেয়া দলিলাদিতে কোনো ভুল পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে এমআরএ সংগ্রহকৃত অর্থ ব্যয়ের তথ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নিতে পারবে। অর্থ সংগ্রহের জন্য ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই স্বীকৃত ঋণমান, সংগ্রহকৃত অর্থ আইন অনুযায়ী ব্যবহারের তথ্য, পূর্ণাঙ্গ বন্ড চুক্তিপত্র, বন্ড ইস্যু করার জন্য পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত এবং এসব কমিটির নিয়মিত কার্যক্রম প্রমাণের জন্য সাধারণ কমিটি ও নির্বাহী কমিটির সভার কার্যবিরণী আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

ঢাকা/এনইউ

আরও পড়ুন: