পুঁজিবাজার আগামী সপ্তাহ থেকে ভালো হবে: শিবলী রুবাইয়াত

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের নানান বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘ এক ঘন্টার আলাপ হয়েছে। সবাই ধৈর্য ধরুন। গুজবে কান দিয়ে প্রতারিত হবেন না। সমস্যা অনেকাংশে কেটে যাবে। পুঁজিবাজার বড় করতে কমিশন দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রনালয়সহ সবাই আমাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। এতে করে আগামী সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে ভালো হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিক লিস্টেট কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) ও ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারকে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শক্তিশালীকরণ’ ত্রিপাক্ষিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ ও বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট এম আনিস উদ দৌলা। সভাপতিত্ব করেন সিএমএসএফ’র চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় আগামী সপ্তাহ থেকে বাজার ভালো হবে। তাই শেয়ারবাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো বড় কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেছে বিএসইসির চেয়ারম্যান।

আইসিবির কথা উল্লেখ করে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, শেয়ারবাজারে আইসিবি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে শেয়ারবাজারকে সাপোর্ট দেওয়া হয়। কিন্তু নানাসময় কিছু বাধাঁর সম্মুখীন হয়ে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এ প্রতিষ্ঠানটিকে এফডিআর এর অর্থ ফেরতের চাঁপ, বিনিয়োগ সীমা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। আইসিবির এসব সমস্যা আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। আশা করি উনি এটাকে খুব শীঘ্রই সমাধান করে দেবেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান আরো বলেন, সিএমএসএফ ব্যবহারের বিষয়ে যেভাবে প্রোডাক্ট ডিজাইন করা হয়েছে এবং যে সাবধানতার সাথে ব্যবহার করা হবে এতে ফান্ডটি কখনো কমবে না, বরং আরো বাড়বে।

শিবলী বলেন, অবণ্টিত ডিভিডেন্ড হচ্ছে কোম্পানিগুলোর কাছে একটি আমানত। সেই আমানত আপনাদের রক্ষা করার দায়িত্ব কিন্তু ঠিকমতো রক্ষা করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ধরলাম নগদ না হয় খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু বোনাস শেয়ারগুলো কোথায়, সেগুলোর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিরীক্ষার মাধ্যমে সেই সকল অবণ্টিত ডিভিডেন্ড বের করা হবে।

শুরুতে ২২ হাজার কোটি টাকার অবন্টিত ডিভিডেন্ডের তথ্য পাওয়া গেলেও এখন সেটা ৭০০-৮০০ কোটিতে নেমে এসেছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এই সময়ের ব্যবধানে এতো টাকা কোথায় গেলো? এই বিষয়টি অনুসন্ধানে আমরা অডিট শুরু করব। শেয়ারবাজারে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ডের বিষয়ে অডিট করা হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, কোম্পানিগুলো যখনই অবন্টিত ডিভিডেন্ড স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে প্রেরণের জন্য সময় চেয়েছে, তখনই দেওয়া হয়েছে। এভাবে বারবার সময় নিচ্ছে। কিন্তু এখনও দেয়নি। কিন্তু অডিট শুরু করার পরে সময় দেওয়া হবে না। এজন্য আগামি ৩১ মে’র মধ্যে সবাইকে অবন্টিত ডিভিডেন্ড দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। অন্যথায় ৩১ মে’র পরে কমিশন যদি কোন পদক্ষেপ নেয়, তখন কাউকে কিছু মনে না করারও অনুরোধ করেছেন তিনি।

তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমাদের দেশ শ্রীলঙ্কা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আমাদের প্রতি মাসে যে রেমিট্যান্স আসে তা দিয়েই ঋণ শোধ করা যাবে, এতে দেশের বা দেশের মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিএমএসএফের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) এর সভাপতি এম আনিস উদ দৌলা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

সংলাপের শুরুতে প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময় সংকটের সময় আইসিবি পুঁজিবাজারে অর্থের যোগান দিয়ে থাকে। তবে সিএমএসএফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংকটের সময় অর্থের যোগান দেয়ার জন্য আরো একটি প্রতিষ্ঠান পাশে পাওয়া যাবে।

বিএসইসির প্রাক্তন কমিশনার এবং শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ভাইস-চেয়ারম্যান আরিফ খান’র পরিচালনায় ডিএসই’র চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান, সিএসই’র চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী সানাউল হক, বিএপিএলসি’র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ প্যানেল আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।

প্যানেল আলোচনায় আসিফ ইব্রাহিম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিদের আরোও বেশি আকৃষ্ঠ করতে পন্যের ডাইভারসিফিকেশন করতে হবে। একই সাথে বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা এখনও পু্ঁজিবাজারে আসেনি তাদের তালিকা ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি এম আনিস উদ দৌলা বলেন এক সাথে কাজ করতে পারলে স্থিশিল পুঁজিবাজার তৈরি সম্ভব।

বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, আরো অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করতে হবে। বড় প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করতে পারলে একটি স্থিশীল পু্ঁজিবাজার গঠন সম্ভব। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। বাজার ভালো হবে।

ঢাকা/টিএ