প্রথম বাংলাদেশি ব্যাংক হিসেবে আন্তঃব্যাংক ব্লকচেইন ঋণপত্র (এলসি) লেনদেন সম্পন্ন করেছে প্রাইম ব্যাংক। বুধবার ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এলসি লেনদেনটি দ্রুততা, কার্যকারিতা ও ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এইচএসবিসি বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে লেনদেনটি করা হয়। এইচএসবিসি বাংলাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন এলসি সম্পন্ন করে।

বিশ্বখ্যাত ট্রেড ফাইন্যান্স ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক কনটোর-এর নেটওয়ার্ট ব্যবহার করে অনন্ত গ্রুপ তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য প্রাইম ব্যাংকে একটি ঋণপত্র খোলে। এইচএসবিসি বাংলাদেশ এর গ্রাহক তামিসনা গ্রুপ থেকে এই কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় এই পাইলট লেনদেনটি সম্পন্ন হয়।

প্রারম্ভিক আলোচনা, আমদানিকারক ও বেনিফিসিয়ারির ঋণপত্রের খসড়া তৈরি, অনুমোদন, ঋণপত্র ইস্যু করা, দলিলাদি উপস্থাপনসহ পুরো প্রক্রিয়াটি কনটোর-এর নেটওয়ার্কে ডিজিটালি সম্পন্ন করা হয়। এ লেনদেনে কোনো কাগজপত্র ও ব্র্যাঞ্চে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। ক্রেতা, ব্যাংক ও বেনিফিসিয়ারি কনটোরের নিটওয়ার্কে লগইন করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পাদন করে।

প্রথমবারের মত শুরু করা ব্লকচেইন এলসি লেনদেন সম্পর্কে প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ফয়সাল রহমান বলেন, প্রযুক্তিতে অগ্রসরতা সত্ত্বেও বিশ্বের অনেক প্রান্তে ট্রেড প্রসেস এখনও অনেকাংশে কাগজ নির্ভর রয়ে গেছে। বাংলাদেশ বাণিজ্যে দ্রুত অগ্রসরমান একটি দেশ। তাই দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ট্রেড ব্যাংক হিসেবে বাণিজ্যে দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা ট্রেডে ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করছি। এইচএসবিসি ও কনটোরের সহায়তায় প্রথমবারের মত ব্লকচেইন এলসি লেনদেন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই লেনদেনটি রিয়েল টাইম, ঝামেলা মুক্ত, কাগজের ব্যবহার মুক্ত এবং একই সাথে ব্যয় সাশ্রয়ী। এই সফল লেনদেনের ফলে বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের স্বচ্ছন্দ্যময় সার্ভিস প্রদানের জন্য ট্রেডে এ ধরনের স্বয়ক্রিয় পদ্ধতি নিয়ে আসবে বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে প্রাইম ব্যাংকের হেড অব ট্রানজেকশন ব্যাংকিং ও স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স শামস আব্দুল্লাহ মোহাইমীন বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রানজেকশন ব্যাংকিং দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ব্লকচেইন/ডিএলটি ভিত্তিক এলসি প্রচলিত কাগজ নির্ভর এলসি পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। ডিজিটালাইজেশনে প্রাইম ব্যাংক সবসময়ই এগিয়ে থাকে। কনটোর নেটওয়ার্কের সাহায্যে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাংক হিসেবে আমরা ব্লকচেইন এলসি লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। আমরা মনে করি এই মডেল সকল পার্টনারের জন্য সুবিধাজনক হবে এবং ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান ট্রেড বিজনেসে এটি ব্যবহারে উৎসাহী হবে।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের হোলসেল ব্যাংকিংয়ের কান্ট্রি হেড কেভিন গ্রিন বলেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন এলসি লেনদেন সফলভাবে সম্পন্নের পর প্রাইম ব্যাংক এর সাথে এই পার্টনারশিপ বাংলাদেশে ব্লকচেইনকে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের প্রতিশ্রুতির প্রমাণ দেয়। বাংলাদেশে এটি প্রথম আন্তঃব্যাংক ব্লকচেইন এলসি লেনদেন। আমরা বিশ্বাস করি এটি ট্রেডকে কাগজের ব্যবহার মুক্ত করার পথে এক ধাপ এগিয়ে দেবে।

অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির বলেন, প্রাইম ব্যাংকের সাথে এই ডিজিটাল এলসি ট্রানজেকশন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। কনটোরের সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে সব স্টেকহোল্ডারেদের সংযুক্ত করে ব্লকচেইন প্রযুক্তির সাহায্যে ট্রেড আরও সহজ করার এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। কাগজনির্ভর এলসি পদ্ধতির তুলনায় এই নতুন এলসি পদ্ধতিতে ডকুমেন্ট জমা, একসেপটেন্সসহ পুরো প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও ঝামেলামুক্ত এবং সময় সাশ্রয়ী।

তামিসনা গ্রুপের পরিচালক নওয়েদ আলম চৌধুরী বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি যে, কোভিড-১৯ এর কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও কাগজ নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করার সময় এসে গেছে। ইটাফিল এক্সেসরিজ লি. (তামিসনা গ্রুপ) এই এইচএসবিসি ও কনটোরের এর সহায়তায় ঐতিহাসিক ব্লকচেইন এলসি ট্র্যানেজকশন করতে পেরে গর্বিত। ট্রেডে ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনোলজি ব্যবহারের সুফল নিতে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।

এ লেনদেন সম্পর্কে কনটোর এর প্রধান নির্বাহী কর্মকতা কার্ল ওয়েগনার বলেন, পুরো ২০২০ সাল জুড়ে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রসেস সহজ করা এবং কোম্পানিগুলো যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয় তার সমাধান করা। এই লেনদেনের মাধ্যমে আমরা দেখেছি যে, স্থানীয় ব্যাংক বা করপোরেট এবং একই সাথে গ্লোবাল ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যাংক বা মাল্টিন্যাশনাল করপোরেশনের প্রয়োজনীয় লেনদেনে সহায়তা করতে পারে। আমাদের নেটওয়ার্কটি সবার জন্য সবার সাথে কাজ করতে সক্ষম। প্রাইম ব্যাংকের সাথে এই পার্টপারশিপটি আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে